চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। ৩১ বছর বয়সি কন্যাকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা কায়সার হামিদ ও মা লোপা কায়সার।
রবিবার (১৭ মে) কারিনার মা লোপা কায়সার সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেন, “জীবনের অনেক বড় বড় পরীক্ষা হাসিমুখে পার করেছি। কখনো কারো কাছে কিছু চাইনি, কারো অপকার করিনি। সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের উপকার করতে। আজ আমার মেয়েকে ছাড়া জীবনের ভার আমি কীভাবে বয়ে বেড়াব, জানি না।”
গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয় কারিনা কায়সারকে। শেষ পর্যন্ত মেয়ের পাশেই ছিলেন তার মা লোপা কায়সার। মেয়ের মরদেহ নিয়ে আজ ঢাকায় ফিরছেন তিনি।
পরিবারের সঙ্গে কারিনা কায়সার
লোপা কায়সার জানান, রবিবার (১৭ মে) বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস মাঠে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে দ্বিতীয় জানাজা হবে। রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে তার মরদেহ। সোমবার (১৮ মে) বাদ ফজর মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে তাকে সমাহিত করা হবে।
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।
কারিনা কায়সার
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে—‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।