ঈদুল আযহার আগে গরু ও মহিষ জবাইয়ের ক্ষেত্রে ১৯৫০ সালের আইন কড়াভাবে বলবৎ করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কলকাতার বিখ্যাত জাকারিয়া স্ট্রিটের নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসেমি
মাওলানা শফিক বলেছেন, “গরু খাওয়া বন্ধ করে দিন। গরু খাওয়া বন্ধ করলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে হিন্দু ভাইয়েরা।”
গরু হত্যা ইস্যুতে মুসলমানদের বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে তিনি গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণা দাবি জানিয়েছেন।
মাওলানা শফিক বলেন, “সরকার সার্কুলার জারি করেছে ১৪ বছরের নিচে কোনো গরু কোরবানি হবে না, প্রকাশ্যে কোরবানি হবে না। সরকারি স্লটার হাউজে কোরবানি হবে। এই আইন ১৯৫০ সালে তৈরি হয়েছিল। তারপর অনেক সরকার এসেছে চলে গিয়েছে। কেউ মুসলমানদের সমস্যার সমাধান করলো না। এখন নতুন যে সরকার পশ্চিমবঙ্গ এসেছে, তারা আবার সার্কুলার জারি করেছে। ১৯৫০ সালে স্লটার আইন লাগু করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমি মুসলমান ভাইদের কাছে আবেদন করছি, আপনারা দয়া করে গরু কোরবানি ছেড়ে দিন। গরু খাওয়া ছেড়ে দিন। তার বদলে ছাগল,খাসি, মুরগি ,মাছ খান। আপনারা যদি গরু খাওয়া ছেড়ে দেন গরু কোরবানি ছেড়ে দেন তাহলে সব থেকে বেশি লোকসান হবে হিন্দু ভাইদের।”
নাখোদা মসজিদের ইমাম বলেন, “আমাদের হিন্দু ভাইদের মধ্যে যারা ঘোষ-যাদব আছেন তারাই মূলত গরু পালন করেন। তাদের গরু যখন দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেয় তখন হাটে এসে তারা সেই গরু মুসলমান ভাইদের বিক্রি করে দেন। যে গরু ২৫ হাজার ৩০ হাজার ৩৫ হাজার টাকায় তারা বিক্রি করতো, বকরি ঈদের সময় তারা ৭৫ হাজার ৮০ হাজার ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে, মুসলমান কিনে নেয়। এ সময় আমাদের হিন্দু ভাইয়েরা একটা গরু বিক্রি করে চারটা গরু কেনে। এতে তো হিন্দু ভাইদের উন্নতি হয়। এখন সরকার যদি ব্যান করে দেয় তাহলে মুসলমানদের কোন ক্ষতি হবে না,ক্ষতি আমাদের হিন্দু ভাইদের হবে। তাই আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি গরুকে আপনারা জাতীয় প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করে দিন।”
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে রীতিমত তির্যকভাবে তিনি বলেন, “কেউ বেচাকেনা করবে না। কেউ কাটবে না, কেউ মাংস খাবে না। কিন্তু ভারতবর্ষে বড় বড় স্লটিং হাউজ আছে। ভারত বিশ্বের মধ্যে বিফ এক্সপোর্টে দ্বিতীয়। যারা খাচ্ছে তাদের কাছে কেটে পিস করে ভালোভাবে প্যাকেট করে পাঠাচ্ছেন। শুধু দেশের মুসলমানরা খাবে না। আপনার সঙ্গে যে মুসলমান ভাইরা থাকে তাদের আপনি টার্গেট করছেন। তাদের আপনি অপরাধী বানিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। এটা ঠিক না। তার জন্যই আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি আপনারা এ বিষয়ে একটা ভালো আইন আনুন। গরুকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণা করে সবকিছু বন্ধ করে দিন।”