খেলাধুলা

তৃতীয়বার বাবরকে আউট করে নাহিদ বললেন, ‘বলে কাউকে আউট করা যায় না’

ছোট্ট টেস্ট ক্যারিয়ার নাহিদ রানার। মাত্র ১২ টেস্ট খেলেছেন। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলা হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেই তার লাইমলাইটে আসা। পাকিস্তানের সেরা ক্রিকেটারকে আউট করার কীর্তিটাও যে আছে তার। 

বাবর আজম বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের একজন। পাকিস্তানের বিপক্ষে চার টেস্ট খেলে বাবরকে তিনবার আউট করেছেন। রাওয়ালপিণ্ডিতে দুই বছর আগে দুইবার আউট করেছিলেন। এবার সিলেটে করলেন একবার। আজ নাহিদের দ্রুতগতির বল ফ্লিক করতে গিয়ে টাইমিং মেলাতে পারেননি। মিড অনে মুশফিকুরের হাতে বল জমে যায়। বাবরের উইকেট নিয়ে নাহিদ দলকে এগিয়ে নেন। এরপর আরও ২ উইকেট নিয়ে নাহিদ পাকিস্তানকে গুড়িয়ে দেন। 

নাহিদ রানা আবারও বাবর আজমকে আউট করার পর মজার ছলে বলেছেন, “বলে কাউকে আউট করা যায় না।” অর্থাৎ শুধু গতিই নয়, পরিকল্পনা আর ধারাবাহিকতাই আসল। সিলেট টেস্টে বাবরকে আউট করে নাহিদ টেস্টে চার ইনিংসে তৃতীয়বার বাবরের উইকেট নিলেন। পরিসংখ্যান বলছে, বাবর নাহিদের বিপক্ষে বেশ ভুগছেন। ৩৯ বল খেলে তিনবার আউট হয়েছেন। 

নাহিদের বোলিং নিয়ে বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তিনি শুধু গতি দিয়ে নয়, শর্ট বল আর ফুলার ডেলিভারির মিশ্রণে বাবরকে ফাঁদে ফেলছেন। আগেও রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে একই ধরনের পরিকল্পনায় বাবরকে আউট করেছিলেন।

পরে নাহিদ আরও যোগ করেন, ‘‘প্রত্যেকটা ব্যাটসম্যানকে আউট করতে মজা লাগে। কারণ প্রত্যেকটা উইকেটই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আমার দলের জন্য। আপনি একটা ব্যাটসম্যানকে বলে আউট করতে পারবেন না যে, এই ব্যাটসম্যানটা ভালো ব্যাটসম্যান কিংবা ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটের বড় নাম, আপনি কখনো বলে আউট করতে পারবেন না। আমি শুধুমাত্র আমার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার চেষ্টা করি এবং চেষ্টা করি যে কিভাবে আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দলকে সাহায্য করা যায়।’’

তবে বাবরকে আউট করার পেছনে তার আলাদা পরিকল্পনা ছিল তা বোঝা গেছে স্পষ্ট। বাবরকে আউট করা ডেলিভারিটা ছিল ১৪৭ ছোঁয়া। আগের দুটি ডেলিভারিতে তেমন জোর দেননি। হুট করে বাড়তি গতির বল পায়ের ওপরে নিয়ে যান। নাহিদেরও দাবি, পরিকল্পনা ছিল তেমনই, ‘‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আপনি ভালোমানের ব্যাটসম্যানকে যখন বোলিং করবেন তখন পেসে কিংবা স্কিলে যদি ভিন্নতা না আনেন তখন কাজে দেবে না। আমি শুধুমাত্র চেষ্টা করেছি। বাকিটা বাস্তবায়ন হয়েছে।’’