তিস্তা ও ধরলা নদী বিধৌত লালমনিরহাটের বেলে-দোআঁশ মাটিতে এবার নতুন চমক দেখিয়েছে উচ্চ ফলনশীল ও গুণগত মানসম্পন্ন ধান ‘ব্রি-১০৮’। সনাতন জাতের ধানকে পেছনে ফেলে কম সময়ে, কম খরচে এবং রোগবালাই মুক্ত এই ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।
রবিবার (১৭ মে) বিকেলে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের ঘনশ্যাম কেরানী পাড়া এলাকায় এই ধানের সম্ভাবনার কথা তুলতে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী ‘ফসল কর্তন ও মাঠ দিবসের’। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) রাজস্ব অর্থায়নে এবং কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়।
মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সোনালী ধানের সমারোহ। নতুন এই জাতের ধান কাটার উৎসব দেখতে উপস্থিত হয় স্থানীয় বিপুল সংখ্যক কৃষক-কৃষাণী। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত চাষিদের মাঝে আধুনিক ধান চাষের বিভিন্ন দিক ও পরামর্শ সংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।
নিজের জমিতে এই ধান চাষ করে বাজিমাত করা সফল কৃষক আল আমিন বলেন, ‘‘ব্রি-১০৮ জাতের ধান চাষ করে আমরা কৃষকেরা ব্যাপক লাভবান হতে পারছি। এই ধানের রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি, আর ফলনও সাধারণ জাতের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। অল্প খরচে ও কম সময়ে অধিক ফলন পাওয়ায় আমাদের এলাকায় এই ধানের চাষাবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ কারণে আমি নিজেও এবার উৎসাহ নিয়ে এই জাতের ধান চাষ করেছি।’’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘‘লালমনিরহাট মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এ অঞ্চলের মাটি বেলে-দোআঁশ ও পলিযুক্ত হওয়ায় ধান চাষের জন্য উপযোগী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ জেলার কৃষকেরা সনাতন জাতের ধান পরিহার করে উচ্চ ফলনশীল ও আধুনিক ‘ব্রি’ জাতের ধান চাষে ঝুঁকছেন, যা জেলার সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’’
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট রংপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় এবং ব্রি রংপুরের ধান গবেষকবৃন্দ। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক চাষি উপস্থিত ছিলেন।