নিয়ম অনুযায়ী সরকারি অফিসে প্রাত্যহিক দাপ্তরিক কাজ করার কথা থাকলেও সেই নিয়ম ভেঙে অফিসকে বাসা বানিয়ে ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আট কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। শুধু বসবাসই নয়, সেখানে রান্নাসহ অবাধে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপরও তাদের বিরুদ্ধে সময়মত অফিস না করার অভিযোগ রয়েছে।
নগরীর বাউন্ডারি রোডে দৃষ্টি নন্দন পাঁচতলা ভবন ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়। ভবনটির পাঁচ তলার তিনটি রুম ব্যবহার করছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। এর মধ্যে একটি ডাইনিং এবং বাকি দুটিতে তারা থাকছেন।
চতুর্থ তলা ও নিচতলায় থাকছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, নকশাকার রাশেদুল ইসলাম, এস্টিমেটর হুমায়ূন কবীর, উচ্চমান সহকারী হাদিউল ইসলাম মোড়ল ও ইলেক্ট্রিসিয়ান জেবারুল মিয়াসহ আটজন। তারা ব্যবহার করছেন এসি, ফ্রিজ, লাইট এবং পানি।
সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে পাঁচতলায় গিয়ে গেস্ট রুমে হাবিবুর রহমানকে পাওয়া গেলেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কক্ষে তালা দেখা যায়।
সাংবাদিকদের দেখে চমকে যান নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় ময়মনসিংহে বাসা ভাড়া না নিয়ে অফিসের গেস্টরুমে থাকছেন। ভাড়া হিসেবে সামান্য টাকা আগামী জুন মাসে সরকারকে দেবেন।
সকাল সাড়ে ৯টা বাজলেও অফিসে যাননি- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘৯টার সময় অফিসে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নাশতা খেতে উপরে উঠেছি।’’
আর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে রুমে পাওয়া না গেলেও তিনি মুঠোফোনে বলেন, তাদের অফিসে বসবাসের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।
অভিযুক্ত স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী হাদিউল ইসলাম মোড়ল বলেন, ‘‘অফিসে রাত্রিযাপন চাকরির বিধিতে নেই। কিন্তু আমার স্যার (নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান) থাকায় বাধ্য হয়ে আমার থাকতে হচ্ছে। স্যার না করলে আর থাকব না।’’
কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগকৃত আয়া মমতাজ বেগম বলেন, ৬ মাস ধরে ৮ জনের জন্য তিন বেলা করে রান্না করছেন। তাকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন ৬ হাজার টাকা দিচ্ছেন। গত ঈদে বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি। তারা এমন করলে তার এখানে কাজ করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরো জানান, তাদের জন্য প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ পদের খাবার রান্না করতে হয়। আজও দেশি মুরগীর মাংস, শাক, মাছ এবং ডাল রান্না করছেন। সকাল ৭টায় এসে যেতে হয় রাত ১০টায়। এতে তার পোষায় না।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারি অফিসকে বাসা হিসেবে ব্যবহার করায় অর্থের অপচয় হচ্ছে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, ‘‘এটি অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে করে অন্য সরকারি কর্মকর্তারা এ সব বিষয়ে সতর্ক হবেন।’’