বাংলাদেশ তখনও ব্যাটিংয়ে। প্রেসবক্সে খেলা দেখতে এসেছিলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। বাংলাদেশের লিড চারশ ছাড়ানোর পর সিট থেকে উঠে তালি দিয়ে বললেন, ‘‘এখন একটু রিল্যাক্স থাকতে পারব।’’ একটু পরই টিভির পর্দায় যেটা দেখলেন সেটা দেখে তার হাসিমুখটা বিষন্ন হয়ে গেল! একটু ভয় লাগা কাজ করছিল! পাশ থেকে একজনের জিজ্ঞাসা, ‘‘এটা এখনই কেন দেখাতে হবে?’’
টিভির পর্দায় উঠে আসে, ২০২১ সালের বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চট্টগ্রাম টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড। যেখানে শেষ হাসিটা হেসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের দেওয়া ৩৯৫ রানের টার্গেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ উইকেট হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলে। অভিষেকে ২১০ রানের বিধ্বংসী ডাবল সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে স্রেফ ছন্নছড়া করে ফেলেন মায়ার্স।
সাকিব, তাইজুল, মিরাজ তিন স্পিন ত্রয়ী সেদিন ছিলেন অসহায়। উইকেট আচমকা ভালো হয়ে যাওয়ায় ঝড়ো ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে হতাশায় পোড়ান মায়ার্স। তবুও বাংলাদেশের বোলিং ভালো ছিল না। শৃঙ্খল ছিল না।
সিলেটে বাংলাদেশ এখন তেমন পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে। শেষ দুদিনে পাকিস্তানকে জিততে হলে ৪৩৭ রান করতে হবে। চতুর্থ ইনিংসে এতো বড় রান করে জয়ের রেকর্ড নেই। পাকিস্তান কখনো চারশর বেশি রান করে ম্যাচও জেতেনি। বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে তাদেরকে।
হাতে দুই দিন, পাক্কা ৬ সেশনের খেলা। ম্যাচে যেকোনো কিছুই হতে পারে। এজন্য বাংলাদেশ বেশ সতর্ক। উইকেট এখনও ব্যাটিং উপযোগী থাকায় ভয়টাও বেশি। তবে জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিলেন না তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট বোলার তাইজুল জয়ের টোটকাও দিয়ে গেলেন, ‘‘প্রথমত এটা ফোর্থ ইনিংস। কিন্তু যতই ফোর্থ ইনিংস হোক, উইকেট স্টিল এখনো গুড। দিনশেষে আমাদের টার্গেটটাও দেখতে হবে। তারা যখন টার্গেটের সংখ্যাটা দেখবে, হয়তো মাথায় অনেক কিছু কাজ করতে পারে। উইকেট যেরকম ভালো আছে, সেরকম আমাদেরও শৃঙ্খল থাকতে হবে। এখানে যারা ভালো করবে, তাদের দিকেই ম্যাচটা আসার সম্ভাবনা বেশি। আমার কাছে যেটা মনে হয়, এখন শৃঙ্খল থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’
নিজেদের ভূমিকা নিয়ে তাইজুল বলেছেন, ‘‘আমাদের ভূমিকা গত ইনিংসে যেমন দেখছেন, ওই ভূমিকাই থাকবে। আমরা যতটুকু রান কম ব্যয় করে উইকেট আনা যায়। এখানে এক্সপেন্সিভ কিছু করা যাবে না। আমি তখনই বলছি, আমাদের অনেক শৃঙ্খল থাকতে হবে। উইকেট স্টিল এখনো খারাপ বলবো না।’’
টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ইতিহাস গড়েছিল ক্যারিবীয়রা। এরপর আর কেউ সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি।
পাকিস্তানের এই দলটা তত অভিজ্ঞ নয়। তাদের জন্য কাজটা কঠিন। তবে ক্রিকেটে অসম্ভব নয় কিছুই। এজন্য মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলাটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন টেস্টে ২৫৭ উইকেট নেওয়া তাইজুল, ‘‘সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে দল অনেক পরিবর্তন হয়। মাঠে যখন নামবেন, তখন ভালো খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ। যে দলটা ভালো খেলবে তারাই সফল হবে। বিগত দিনে দেখবেন, পাকিস্তান এই দল নিয়েও অনেক জায়গায় ফল পেয়েছে। পাশাপাশি দিনদিন আমাদের দলের অবস্থানটা কোথায় সেটাও দেখছি। আমাদেরও ভালো হচ্ছে। আমাদেরওক বড় বড় দলকে হারানো সহজ হবে।’’