দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুরের নীতিগত সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে স্ক্যাম, ফিশিংসহ অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ দমনে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সিঙ্গাপুরের অনিবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সাইবার সিকিউরিটি, আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে তথ্য বিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও বহুমুখী। এই সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একই ধরনের মনোভাব পোষণ করে।”
সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লো জানান, বাংলাদেশ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুর সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। এজন্য তিনি বাংলাদেশ থেকে সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের একটি প্রতিনিধিদল সিঙ্গাপুরে পাঠানোর প্রস্তাব দেন।
হাইকমিশনার আরো জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় বছরে প্রায় ৩০টি সভা, সেমিনার, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশও অংশ নিতে পারে।
সাইবার অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্ক্যাম, ফিশিংসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ বাড়ছে। এসব আধুনিক অপরাধ দমনে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় জরুরি।”
বৈঠকে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে রিয়েল-টাইম (তাত্ক্ষণিক) তথ্য বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন হাইকমিশনার ডেরেক লো। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছে।
ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরের কাছে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটার্স’বিষয়ক একটি চুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সিঙ্গাপুর সম্মতি দিলে দ্রুততম সময়ে এই চুক্তি সই করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করে হাইকমিশনার ডেরেক লো স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, আবাসন ও যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বাংলাদেশের ব্যবসাবান্ধব নীতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিঙ্গাপুরের সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ দেশের উন্নয়ন অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।