পরকীয়ার জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মো. মোকাররমকে হত্যার পর তার মরদেহ ৮ টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে হত্যাকারীরা পরে পার্টি করে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ ঘটনায় প্রধান আসামি হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে হালিমাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে শাহজাহানপুরে র্যাব-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফিন এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মোকাররমের সঙ্গে একই গ্রামের আরেক প্রবাসী সুমনের সুসম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনার সঙ্গে মোকাররমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা নিয়মিত অডিও-ভিডিও কলে যোগাযোগ করতেন।
হেলেনার দেওয়া তথ্যের বরাতে র্যাব জানায়, প্রবাসে থাকা অবস্থায় মোকাররম বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন। গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তিনি ঢাকায় আসেন এবং প্রেমিকা তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে মান্ডায় হেলেনা আক্তারের ভাড়া বাসায় ওঠেন। ওই বাসায় হেলেনা ও তার দুই মেয়ে থাকতেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে তাসলিমা ও মোকাররমের মধ্যে বিয়ে নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাসলিমা বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে মোকাররম তাকে দেওয়া টাকা ফেরত চান এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একই সময়ে হেলেনা অভিযোগ করেন, মোকাররম তার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে অসামাজিক আচরণের চেষ্টা করেছিলেন। এরপর তাসলিমা ও হেলেনা মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরদিন সকালে নাস্তায় পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ানো হয়। পরে হেলেনা বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মোকাররম তাকে কামড় দেন। পরে তাসলিমা হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হেলেনা বটি দিয়ে মোকাররমের গলায় কোপ দেন এবং হালিমা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে তাসলিমা আরো কয়েকটি কোপ দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে বলে দাবি র্যাবের।
হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে রক্ত পরিষ্কার করা হয়। পরে মরদেহ ৮ টুকরা করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাখা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাতের অন্ধকারে দেহের সাতটি অংশ বাসার নিচে ময়লার স্তূপে এবং মাথা প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে দেওয়া হয়।
র্যাব আরো জানায়, মরদেহ ফেলার পর অভিযুক্তরা বাইরে ঘুরতে যান, একটি হোটেলে বিরিয়ানি খান এবং বাসায় ফিরে ছাদে পার্টি করেন। এমনকি প্রতিবেশীদেরও সেই পার্টিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান তারা।
পরবর্তীতে ১৬ মে তাসলিমা তার সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। আর ১৭ মে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, ঘটনার মূল আসামি হেলেনা বেগমকে রবিবার মান্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।