যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্দেহভাজন এই ঘণামূলক অপরাধে দুই কিশোরের গুলিতে অন্তত তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর হামলাকারী দুই কিশোরও আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
সান ডিয়েগো পু্লিশ জানায়, সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বন্দুক ও গাড়ি নিয়ে এক কিশোরের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করছিল তারা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বেলা পৌনে ১২টার (স্থানীয় সময়) দিকে সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গোলাগুলির খবর পায় পুলিশ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মসজিদের সামনে তিনজনকে গুলিবিদ্ধ ও মৃত অবস্থায় দেখতে পান কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই মসজিদের নিরাপত্তা প্রহরী। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে বন্দুকধারীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিয়েছিলেন।
সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নিরাপত্তা প্রহরীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ। তিনি আজ নিজের প্রাণ দিয়ে আরো বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন ও বড় বিপর্যয় রুখে দিয়েছেন।”
কর্তৃপক্ষ এখনো নিহত তিনজনের নাম প্রকাশ করেনি। তবে বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংস্থা সিবিএস-কে পরিচিত একজন ব্যক্তি জানান, নিহত ওই নিরাপত্তা প্রহরী আট সন্তানের জনক ছিলেন।
তদন্তকারীরা জানান, বন্দুকাধারীরা মসজিদের ভেতরে ঢুকতে না পেরে বাইরেই তিনজনকে হত্যা করে দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ যখন মসজিদের ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই খবর আসে কাছেই চলন্ত গাড়ি থেকে এক বাগানকর্মীর ওপর গুলি চালিয়েছে ওই হামলাকারীরা। তবে ওই কর্মীর মাথায় থাকা শক্ত হেলমেটে গুলি লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি বেঁচে যান।
এর পরপরই মসজিদ থেকে কয়েক ব্লক দূরে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানান, হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। তবে এটিকে ঘৃণামূলক অপরাধ বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ আক্রান্ত স্থানটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ এবং একজন সন্দেহভাজনের লেখা কিছু নোট পাওয়া গেছে।
হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আরেকজন সঙ্গীকে সহ ছদ্মবেশী সামরিক পোশাকে পালিয়ে গেছে। ওই কিশোর যাওয়ার আগে একটি নোট রেখে যায়, যাতে ব্যাপক মাত্রায় বর্ণবাদী ও উগ্র ঘৃণামূলক বক্তব্য লেখা ছিল।
সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানান, ওই নোটে মসজিদ বা নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হুমকি ছিল না। পুলিশ যখন ওই মায়ের সাথে কথা বলছিল, তখনই তারা মসজিদ থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে অবস্থান করছিল। কিন্তু পুলিশ মূল অপরাধের জায়গায় পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে পালিয়ে যায় এবং পরে নিজেরাই নিজেদের জীবন শেষ করে দেয়।
আর কয়েক দিন পরেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব ঈদুল আজহা। তার আগেই ঘটল এই হামলা।
সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক তাহা হাসান বলেন, “আমরা এর আগে কখনও এ ধরনের ট্র্যাজেডির মধ্যে দিয়ে যাইনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা খুবই ভয়ানক একটি ব্যাপার।”
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম এক বিবৃতিতে জানান, ইসলামিক সেন্টারে এই ‘সহিংস হামলায় আতঙ্কিত’ তিনি। তার মতে, “এটি এমন একটি স্থান, যেখানে পরিবার ও শিশুরা জড়ো হয় এবং মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে উপাসনা করে।”
নিউসম আরো বলেন, “ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা বা ভয়ভীতি সৃষ্টির কোনো ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বরদাশত করবে না।”
ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্তে সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।