জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, গালিগালাজ, মারধরের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন সাংবাদিকরা।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. শামসুল আলমকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম তাওহীদ বলেন, “দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, গালিগালাজ এবং মারমুখী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মব’ তৈরির অপচেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। আমরা লিখিতভাবে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জাবি প্রতিনিধি মাহ্ আলম বলেন, “প্রক্টর অফিসের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারমুখী আচরণ করেন। এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক। আমরা আশা করি, প্রশাসন বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত উত্তেজনাপূর্ণ একটি পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নূর-এ-তামিম স্রোত, অর্থনীতি বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ রাতুল, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা আফরিন এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ফারাবিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ করেন।
এছাড়া, অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে ওই ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অর্থনীতি বিভাগের ৫২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজিহা নাওয়ার প্রকাশকারী গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় ‘ক্যারিয়ার ধ্বংস’ করার হুমকি দেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে উসকানিমূলক সমর্থন দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, একই দিন দুপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়েন। দর্শন বিভাগের ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও এনটিভি অনলাইনের জাবি প্রতিনিধি আকিব সুলতান অর্নব এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৫২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও খবরের কাগজের জাবি প্রতিনিধি আমানউল্লাহ খান রেজিস্ট্রার ভবনে প্রবেশের সময় পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন। তবে ভবনের ভেতরে প্রবেশের পরও আমানউল্লাহ খানকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালেও তাকে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগপত্র গ্রহণ করে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও হুমকির অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। একদিকে শিক্ষার্থীর ওপর ধর্ষণচেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা, অন্যদিকে চলমান আন্দোলন, সবকিছু বিবেচনায় রেখেই আমরা কাজ করছি। সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়েও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। কোনো অপরাধী যেন পার পেয়ে না যায় এবং নিরপরাধ কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।”