সারা বাংলা

ডুয়েটে নতুন ভিসির প্রবেশে বাধা, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা 

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন মঙ্গলবার (১৯ মে) নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা এ দিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনের পঞ্চম দিনের ধারাবাহিকতায় ঘোষিত ব্লকেড কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে। দুপুরের দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি পরিস্থিতির মুখে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

গত ১৪ মে অধ্যাপক ড. মো. ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এর আগে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন। নিয়োগের পর থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার নিয়োগের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে, যা ধীরে ধীরে বর্তমান অচলাবস্থার দিকে গড়ায়। তাদের দাবি ডুয়েটের কোনো শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ দিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের দাবি-দাওয়াকে উপেক্ষা করে প্রশাসন একতরফাভাবে নতুন উপাচার্যকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিতে চাইছে। উপাচার্যের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ফটক বন্ধ করে দেন। একইসঙ্গে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি আরো কঠোর করার ঘোষণা দেন।

এদিকে গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ তাকে সহায়তা দেয়। তবে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

রবিবার (১৭ মে) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরে ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেন, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।