সারা বাংলা

খুলনায় সমিতির অফিস দখলে নিতে গিয়ে ঠিকাদার গুলিবিদ্ধ 

খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) ঠিকাদার সমিতির অফিস দখলে নিতে গিয়ে শেখ হারুনুর রশিদ (৫৩) নামের এক ঠিকাদার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে নগরীর খানজাহান আলী রোডের আল হেরা জামে মসজিদের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। 

খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

আহত শেখ হারুনুর রশিদ খালিশপুর থানাধীন নয়াবাটি এলাকার শেখ আব্দুর রউফের ছেলে। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

সমিতির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক এস এম  আজিজুর রহমান স্বপন বলেছেন, “আমার এলাকার এক বন্ধু মারা গেছে। আমি সেখানে ছিলাম। হঠাৎ অফিস স্টাফ শাহাদাত হোসেন ফোন করে জানান, সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে এম রেজাউল আলম ও হারুনুর রশিদসহ কয়েকজন অফিস দখল করতে এসেছে। তারা কয়েকজন দুস্কৃতকারীদের নিয়ে এসে সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসি। অফিসে এসে দেখি, তারা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের চেয়ার দখল করে বসে আছে। তখন তাদের কাছে আমি বলি, ‘আপনাদের কোনো দাবি দাওয়া থাকলে আমার কাছে লিখিত দেন।’ এ সময়ে সেখানে উপস্থিত সাধারণ সদস্যরা বলেন যে, ‘এটা কি গরুর হাট যে আপনারা দখল করছেন।’ এর পর আগতরা সমিতির সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আমাকে গুলি করা হয়।”

তিনি আরো বলেন, “তাদের উদ্দেশ্য ছিল— অফিস দখল করা। তারা অফিস না ছেড়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি মনে করি, আমার ওপর আক্রমণের পরিকল্পনা ছিল। আমি জীবননাশের শঙ্কা নিয়ে ওখানে ছিলাম। তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করছে। কে গুলি করেছে, জানি না। সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদের গায়ে গুলি লেগেছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে, নিজেকে খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দাবি করে খান মো. রেজাউল আলম বলেছেন, “গুলিবিদ্ধ হওয়া হারুনুর রশিদ নির্বাচিত সহ-সভাপতি। এস এম আজিজুর রহমান স্বপন নিজেকে আহ্বায়ক দাবি করে মব সৃষ্টি করে জায়াগাটা (অফিস) দখল করে নেয়। এ বিষয়ে আমরা হাইকোর্টে মামলা করি। রায় আমাদের পক্ষে। সেজন্য আমরা আজ অফিসে গিয়ে আসন গ্রহণ করি। তখন তারা এসে আমাদের আসন ছেড়ে দিতে বলে। তারা কোর্ট বা কোনো কিছু মানে না।"

তিনি বলেন, “ঠিকাদার স্বপন কাকে যেন ফোন করে বলে গোলাগুলি করতে। ওরা আমাকে উদ্দেশ্য করে গুলি করে। আমার ছেলে বাধা দেওয়াতে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট্র হয়ে হারুনুর রশিদের পায়ে বিদ্ধ হয়। তারা শটগান দিয়ে গুলি করে। এ সময় অনেক দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে ছিল। ঘটনার সময় স্বপন, ওয়াহিদুল ইসলাম, তকিবর রহমান ও হাফিজসহ অনেকেই উপস্থিত ছিল।”

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, “নিজেদের মধ্যে কথাকাটাকাটির জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ হারুনুর রশিদকে গুলি করে। কারা গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”