পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ভরাডুবির পর বিষণ্নতার ছায়া সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চারদিকে। দল থেকে নেতাদের পদত্যাগ ও একের পর এক গ্রেপ্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়- এসবের মধ্যে দল টেকাতে হিমশিম মমতার জন্য এবার বিপন্নতার সুর বাজিয়ে দিলেন এতদিনকার বিশ্বস্ত জাহাঙ্গীর খান।
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি আস্থা প্রদর্শন করে মমতার সঙ্গে কোনো আলাপ না করেই ২১ মে অনুষ্ঠেয় পশ্চিমবঙ্গের ফলতা বিধানসভা আসনের পুনঃনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন পুষ্পাখ্যাত জাহাঙ্গীর খান।
দক্ষিণ ভারতের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘পুষ্পা’র নায়কের নামও পুষ্পা। ভয়ংকর মারকুটে এই চরিত্রের নামে নিজেকে ‘পুষ্পা’ হিসেবে প্রচারে আনেন জাহাঙ্গীর খান। ডায়মন্ড হারবারে আইপিএস কর্মকর্তা অজয়পাল শর্শার সঙ্গে টক্কর দিতে গিয়ে জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, উনি সিংহম হলে আমিও পুষ্পা। অজয়পালকে বড় পর্দার ‘সিংহম’ বলা হয়ে থাকে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে যেমন একের এক নেতা দল ছেড়ে যাচ্ছেন, অনেকে আবার গ্রেপ্তার হচ্ছেন; এরই মধ্যে আস্থাভাজন জাহাঙ্গীর খান দলকে না জানিয়ে হঠাৎ ফলতার উপ-নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট এই জাহাঙ্গীর খান রাজনীতির ময়দানে বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণাত্মক ভাষায় বিদ্ধ করার জন্য বহুল পরিচিত। অথচ সেই জাহাঙ্গীর কিনা ভোটের মাত্র দুদিন আগে নাটকীয়ভাবে সরে দাঁড়ালেন। এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের অস্তিত্ব আরো নড়বড় হয়ে গেল বলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গত ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল দুই ধাপে রাজ্যের ২৯৪ আসনে ভোট নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ভোট নেওয়া হয়েছিল ফলতা বিধানসভা আসনেও। তবে সেই ভোটে একাধিক অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ উঠে। খোদ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে ওঠে ভোট লুটের অভিযোগ। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তদন্তে নামে নির্বাচন কমিশন।
তদন্ত শেষে কমিশন জানায়, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তৃণমূল প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট না দেওয়া যায়। আবার বেশ কিছু জায়গায় ইভিএম মেশিনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকযুক্ত বাটনের ওপর আতর লাগিয়ে রাখা হয়। যাতে কেউ ভোট দিলে তাকে সহজেই শনাক্ত করা যায় এবং সামাজিক শাস্তি দেওয়া যায়।
নির্দিষ্ট কিছু বুথে ভোট লুটের অভিযোগ থাকলেও ভারতের নির্বাচন কমিশন পুরো আসনের নির্বাচন বাতিল করে দেয়। দেওয়া হয় পুনঃতফসিল।
সেই অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফলতা আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। ওই দিন ফলতার ২৮৫টি বুথে ভোট গ্রহণ হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ২৪ মে হবে ফলপ্রকাশ। আসনটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা ছিল। অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের জাহাঙ্গীর হঠাৎ ময়দান ছেড়ে দেওয়ায় এখন বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াই হবে বামেদের।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সংবাদ সম্মেলনে এসে জাহাঙ্গীর খান বলেন, “ফলতার উন্নয়নের স্বার্থে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমি ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নিজেকে ফলতার ভূমিপুত্র দাবি করে বলেন, “আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাই ফলতা ভালো থাকুক, শান্তিতে থাকুক। আমি চাই ফলতায় বেশি বেশি করে উন্নয়ন হোক। আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতা হোক।”
এরপর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রতি আস্থার কথা তুলে ধরে জাহাঙ্গীর খান বলেন, “আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছেন। সেই জন্য আমি আগামী ২১ মের পুনঃনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।”
ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও এখন আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারছেন না জাহাঙ্গীর খান। কারণ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এই আসনে প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের শেষ দিন অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।
তৃণমূল প্রার্থীর ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, “জাহাঙ্গীর খান ফলতা আসন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, খবরটা শুনেছি। বিজেপি বা নির্বাচন কমিশন কোনো এজেন্সি দিয়ে ওখানে কোনো ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিল কি না, জানা নেই। ফলে প্রথম প্রশ্ন, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল কিনা! দ্বিতীয় প্রশ্ন, যদি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়ে থাকে, তারপরও জাহাঙ্গীর কেন ভয় পেল।”
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডলের একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, “এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।”
এবারের পুনঃনির্বাচনে এই আসনটিতে তৃণমূল ও বিজেপি ছাড়াও সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের লড়াইয়ে আছেন শম্ভু নাথ কুর্মী এবং কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক। একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
তবে অন্য প্রার্থীদের যখন নির্বাচনি প্রচারে ময়দানে দেখা গেছে, সেখানে প্রধান বিরোধীদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানকে পুনঃনির্বাচনের প্রচারের ময়দানে দেখা যায়নি। এমন কী, তৃণমূলের প্রধান মমতা কিংবা তার ভাতিজা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক- কেউ ফলতায় প্রচারে আসেননি।
ফলতা আসনে ভোটগ্রহণের আগে মঙ্গলবার ছিল নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিন। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচারে নামেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সকালে ফলতায় পৌঁছে স্থানীয় বাণেশ্বর মন্দিরে পূজা দেন শুভেন্দু। এরপর সেখান থেকে রোড শোতে অংশ নেন তিনি। ছাদ খোলা গাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলেন প্রার্থী দেবাংশু। আরো ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতারা।
এই রোড শো উপলক্ষে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। রাস্তার দুপাশে অসংখ্য সাধারণ মানুষ জমায়েত ছিল। তারা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’খ্যাত জাহাঙ্গীর খান। ফলতার উপ-নির্বাচন থেকে তিনি বসে যাওয়ায় সব ব্যর্থতার অভিযোগের তীর এখন অভিষেকের দিকে।
আর সেই মিছিল থেকেই জাহাঙ্গীর খান ও অভিষেককে একযোগে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “২১ তারিখ আপনাকে মানুষ এমনিতেই সরিয়ে দিত। আপনি তো পোলিং এজেন্টই পেতেন না। আপনাকে যিনি গাছে তুলেছিলেন সেই, অভিষেক ব্যানার্জি- তারও দেখা নেই। পুষ্পা বলেছিলেন, তিনি মাথা নোয়াবেন না। আর আজকে জানিয়ে দিলেন তিনি নির্বাচনে লড়ছেন না। এটাই হচ্ছে তৃণমূলের কৌশল।”
ভোটার ও বিজেপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “আপনারা হয়তো ভাববেন, আমরা জিতে গেছি। তাই ভোট না দিলেও চলবে। আমি বলব, ১০ বছর পর ভোট দেওয়ার স্বাদ পেয়েছেন, ১০০ শতাংশ ভোট চাই।”
এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা বিধানসভা আসনে নতুন করে নির্বাচন নিয়ে কোনো রকম সহিংসতা দেখতে চায় না ভারতের নির্বাচন কমিশন। মোট ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যেক ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে অন্তত আটজন জওয়ান মোতায়েন থাকছেন। থাকছে ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ভোট গ্রহণ কেন্দ্রগুরো থেকেই ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে।
আলোচনায় মমতার তৃণমূলের বিপন্নতা জাহাঙ্গীর খানের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কথায় তৃণমূলের বিপন্নতার বার্তা স্পষ্ট।
তিনি বলছেন, যারা পুলিশের সাহায্যে গুন্ডাগিরি করে ডায়মন্ড হারবারের ফলতায় বিরোধীশূন্য করে দিয়েছিল অভিষেক ও তার সহযোগী জাহাঙ্গীর খানরা। আজ সেখান থেকেই পাততাড়ি গুটিয়ে সরে গেলেন তৃণমূল প্রার্থী। তারা আজ গণতন্ত্রের লড়াই থেকে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেছেন। এখন এই লড়াই বিজেপি বনাম বামপন্থিদের সরাসরি লড়াই।”
ভারতের লোকসভার একটি আসন ডায়মন্ড হারবার, যেখানে সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই লোকসভা আসনের মধ্যেই পড়ে ফলতা বিধানসভা আসন। ফলে ভাইপোখ্যাত অভিষেকের নির্বাচনি এলাকায় জাহাঙ্গীর রণেভঙ্গ দেওয়াকে তৃণমূলের বিরোধীরা দলটির নিশ্চিহ্ন হওয়ার রেখা হিসেবে দেখছে।
অভিষেকের নাম উচ্চারণ না করে শুভেন্দু আক্রমণ শানান এই ভাষায়, ‘‘ভাইপো বাবু এলেন না কেন প্রচারে? আপনার প্রার্থী কোথায়? সো কল্ড সেলফ্ ডিক্লেয়ার্ড পুষ্পা! জানে পোলিং এজেন্ট পাবেন না। তাই পালিয়েছেন!’’
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পরে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আই-প্যাককে পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে নিয়োগ দেয় মমতার তৃণমূল। এই সংস্থার পরামর্শে ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে চলে আসেন অভিষেক। আলোচনায় আসে তার ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’। যে মডেলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৭ লাখ ১০ হাজার ৯৩০ ভোটে জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।
২০২১ সালে ৪০ হাজার ভোটে ফলতা বিধানসভা আসনে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দুই বছর শেষে অভিষেকের ‘ঘনিষ্ঠ অনুগামী’ জাহাঙ্গীর সেই ফলতাতেই ‘ওয়াক ওভার’ দিয়ে দিলেন শুভেন্দুর দলকে। সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নের মুখে ফেললেন অভিষেকের নেতৃত্ব গুণকে।
ফলতা বিধানসভা আসনের স্থানীয় তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “উনি (অভিষেক) ছিলেন দলের সেনাপতি। বিধানসভা ভোটে রাজ্যজুড়ে দলের বিপর্যয় ঘটেছে। এই সময় অভিষেক যদি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব না দিয়ে অন্তরালে চলে যান, তবে আমরা তো আরো দিশেহারা হয়ে যাব।”
বিজেপির খোঁচা পুনর্নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরই অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে খোঁচা দিতে থাকে বিজেপি। দলটির নেতা অমিত মালব্য এক্স পোস্টে লেখেন, “ডায়মন্ড হারবার মডেল চুরমার।”
সেই পোস্টের জবাব দেন অভিষেক। এক্স পোস্টে পাল্টা লিখেছিলেন, “আপনাদের বাংলাবিরোধী গুজরাতি গ্যাং এবং তাদের দালাল জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষে আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে কালি ছেটানো সম্ভব নয়।”
কিন্তু পরিস্থিতি বলছে, গত ৪ মের পরে গোটা রাজ্যের মতোই ফলতার পরিস্থিতিও বদলে গেছে। একদা ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী’ জাহাঙ্গীরকে এখন গ্রেপ্তার এড়াতে হাইকোর্টের রক্ষাকবচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা বনাম তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীরের ঠান্ডা লড়াই প্রত্যক্ষ করেছে রাজ্য।
এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট অজয়পাল উত্তর প্রদেশের আইপিএস কর্মকর্তা । পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ভাবমূর্তির জন্য বড়পর্দার চরিত্র ‘সিংহম’-এর সঙ্গে তার তুলনা করা হয় যোগী আদিত্য নাথের রাজ্যে। সেই অজয়পালের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, ‘‘উনি সিংহম হলে আমিও পুষ্পা... ঝুঁকেগা নেহি।’’
আর এখন? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘ভোট শেষ হোক। ওর ব্যবস্থা করব। সেই দায়িত্ব আমার।’’
শুভেন্দুর এই হুংকারের পর জাহাঙ্গীরের ভোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা কাকতালীয় কি? যেখানে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা ও পরাজিত প্রার্থীদের একের পর এক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক ও গায়িকা অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী।