স্কোর: পাকিস্তান ৩৫৮/১০ (টার্গেট ৪৩৭)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়
পাকিস্তানকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ। দুই বছর আগে রাওয়ালপিণ্ডিতে করেছিল। দুই বছর পর এবার ঘরের মাঠে একই স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
তাইজুল ইসলাম পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন খুররাম শেহজাদ। তাইজুলের শর্ট বল মিড উইকেট দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন খুররাম। টাইমিং মেলাতে পারেননি। সীমানায় অভিষিক্ত তানজিদ ছিলেন ফিল্ডিংয়ে। সহজতম ক্যাচ নিয়ে শেষটা সুন্দরতম করে তোলেন তানজিদ।
তাইজুল পেলেন ষষ্ঠ উইকেট। বাংলাদেশকে ভাসালেন আনন্দে। কোনো রান না দিয়েই শেষ ৩ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১২০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তাইজুল একাই গুড়িয়ে দিলেন অতিথিদের। বাকি কাজটা সারেন সতীর্থরা।
রিজওয়ান আউট, জয়ের জন্য ১ উইকেট চাই বাংলাদেশের
পথের কাঁটা দূর করলেন শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি পেসার বোলিংয়ে এসে তুলে নিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ানের উইকেট। দিনের শুরুতে নাহিদ রানার বলে যেভাবে জীবন পেয়েছিলেন, এবার সেভাবেই আউট হলেন।
অফস্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন। এবার মিরাজ কোনো ভুল করেননি। বল মুঠোবন্দী করে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসান। ১৬৬ বলে ৯৪ রান করে রিজওয়ান আউট হলেন।
পাকিস্তান হারাল নবম উইকেট। বাংলাদেশের জয়ের জন্য চাই আরও ১ উইকেট।
তাইজুল এনে দিলেন ব্রেক থ্রু
প্রথম ঘণ্টার পানি পান বিরতির পর প্রথম ওভারেই সাফল্য পেল বাংলাদেশ।
তাইজুল ইসলামের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সাজিদ খান। তার হাওয়ায় ভাসানো বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে গিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন সাজিদ। ৩৬ বলে ২৮ রান করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
এই উইকেট দিয়ে তাইজুল ৫ উইকেট পূর্ণ করলেন। ক্যারিয়ারে ১৮তম বার ফাইফার পেলেন তাইজুল।
সুযোগ হাতছাড়া
নাহিদের দ্রুত গতির শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন সাজিদ খান। বল যায় শর্ট লেগের থেকে একটু দূরে। সেখানে ফিল্ডিংয়ে ছিলেন তাইজুল। উইকেট কিপার লিটন দৌড়ে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নাগালে পাননি। তাইজুলও খুব একটা চেষ্টা করেননি। উইকেট পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ লুফে নিতে পারেননি।
বাংলাদেশকে চাপে রেখে রান তুলছে পাকিস্তান
দিনের প্রথম ৫ ওভারে ২৯ রান তুলে বাংলাদেশকে চাপে রেখেছে পাকিস্তান। এই ৫ ওভারে ৪টি বাউন্ডারি মেরেছেন পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান রিজওয়ান ও সাজিদ।
পাকিস্তানের দলীয় রান সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছে। লক্ষ্য নেমে এসেছে একশর নিচে।
রিজওয়ানের ক্যাচ ছাড়লেন মিরাজ
দিনের প্রথম ওভারে নাহিদ রানার বলে জীবন পেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। নাহিদের দ্রুত গতির বলে আলগা শট খেলেছিলেন রিজওয়ান। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে যায় গালিতে। মেহেদী হাসান মিরাজ সেখানে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু ডানদিকে ঝাঁপিয়েও বল তালুবন্দি করতে পারেননি। ৭৭ রানে তখন ব্যাটিং করছিলেন রিজওয়ান।
১৫ মিনিট পর শুরু পঞ্চম দিনের খেলা
আকাশে কালো মেঘ। সকাল থেকেই সিলেটে বৃষ্টি। গত চারদিনে রাতে প্রচুর বৃষ্টি হলেও দিনে ছিল মেঘ-রোদের লুকোচুরি খেলা।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টে বৃষ্টি বাগড়া দিতে পারে এমন আভাস ছিল। কিন্তু প্রথম চারদিনের খেলায় এক মিনিটও খেলা বন্ধ হয়নি। বরং আর্দ্রতা ভুগিয়েছে দুই দলকেই।
পঞ্চম দিনের সকালে সেই বৃষ্টির কারণেই খেলা পেছাল। সকাল ১০টায় ম্যাচ শুরুর কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে ১৫ মিনিট পিছিয়েছে। এখন বৃষ্টি নেই। মাঠ থেকে কাভার সরানো হয়েছে। ক্রিকেটাররা নিজেদের মতো করে নিচ্ছেন প্রস্তুতি। ১০টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়েছে শেষ দিনের খেলা।
শেষ দিনে রোমাঞ্চের অপেক্ষা
হাতে ৩ উইকেট। লক্ষ্য ১২১ রান। পাকিস্তানের স্বীকৃত শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। সাথে আছেন সাজিদ খান। এরপর খুররাম শাহজাদ। শেষ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আব্বাস।
পাকিস্তানের জন্য কাজটা কঠিনই। এর মধ্যে গুমোট আবহওয়া বাংলাদেশের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি। নতুন বলে পেসাররা আগুন ঝরালে বাংলাদেশের জয়ের জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান আজ হারলেই হবে হোয়াইটওয়াশ।
রাওয়ালপিণ্ডির পর কি সিলেটে?
দুই বছর আগে পাকিস্তানকে পাকিস্তানের মাটিতেই টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর দল নিজেদের সাফল্যর পাতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেন। আজ সেই অধ্যায়ে নতুন গল্প লিখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
ঢাকায় পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেওয়ার পর সিলেটেও একচেটিয়ে পারফরম্যান্স বাংলাদেশের। নয়নাভিরাম সিলেট স্টেডিয়ামে ৩ উইকেট নিতে পারলেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত। তাহলে রাওয়ালপিন্ডির পর সিলেটেও পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ।