খেলাধুলা

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে যেখানে বাংলাদেশ এক, অনন্য

পাখির মতো ডানা মেলে উড়ছেন মুশফিকুর রহিম। তাইজুল ইসলাম শূন্যে লাফিয়ে উঠে নৃত্যে মগ্ন। লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত পাশাপাশি থেকে একে অপরকে জড়িয়ে নিলেন। ওদিকে যে যার ফিল্ডিং পজিশন থেকে এসে সেন্টার উইকেটের ঠিক সামনে এসে জড়ো হয়ে গেলেন। আনন্দময় মুহূর্ত, আন্দন্দচিত্তে উপভোগ। 

পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয় সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ তখন পরম আনন্দে। ২০২৪ সালের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো টেস্ট ম্যাচ জয় তো দূরের কথা, ড্র করাও ছিল বিরাট কিছু। সেখানে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে পাকিস্তানকে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে। দুই বছর পর ঘরের মাঠেও একই সাফল্য। ঢাকার পর সিলেটেও ২-০ ব্যবধানে জয়।

আর এই সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে অসাধারণ এক রেকর্ডে নিজেদের জড়িয়ে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া একমাত্র দল টানা দুই টেস্টে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে। সেটা তারা পাকিস্তানকে ডেকে তাদের মাটিতেই করেছে। কিন্তু বাংলাদেশই একমাত্র দল যারা হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে দুই সিরিজেই পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে।

অর্জনে, গর্জনে, তর্জনে বাংলাদেশ এই সিরিজে ছিল অনন্য, অসাধারণ। ব্যাটসম্যানরা রান পেয়েছেন, বোলাররা পেয়েছেন উইকেট। ফিল্ডিংও ছিল দুর্দান্ত। সব মিলিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বাংলাদেশ বেশ ভালো সময় কাটাচ্ছে।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এই অর্জনকে বলছেন অনেক স্পেশাল, ‘‘এখন পর্যন্ত আমি মনে করি, সামনে বাংলাদেশ আরও অনেক টেস্ট ম্যাচ খেলবে এবং সেখানে আরও ভালো ভালো অর্জন আসবে, এটাই প্রত্যাশা। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, এই চারটি ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক স্পেশাল। আমরা সত্যিই অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি।’’

তবে উন্নতির সুযোগগুলোকে হাতছাড়া করতে চান না শান্ত, ‘‘আমাদের টেস্ট দলটাকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হবে। এখনও অনেক জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে। সেগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে হবে। যখন আমরা দেশে এবং দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারব, তখনই বলা যাবে যে আমাদের টেস্ট দল আগের চেয়ে আরও ভালো অবস্থানে যাচ্ছে।’’