নাজমুল হোসেন শান্তর জন্য পাকিস্তান নতুন কোনো প্রতিপক্ষ নয়। যে দলের বিপক্ষে খেললে নিজেদের পাওয়ার অনেক কিছু থাকবে। শেষ চার টেস্টে চারটিতে জেতায় এই আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। তাইতো শান্ত নিজেদের পারফরম্যান্স, দলের তাড়না, নিবেদনে গর্ব খুঁজে পান।
টেস্ট ক্রিকেটে ক্রমবর্ধমান হারে উন্নতি করছে বাংলাদেশ। শেষ দশ টেস্টে ৬টিতে জিতেছে। ড্র করেছে ১টি। হেরেছে ৩টি। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্সের পুরস্কারও পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ে সাতে উঠেছে। পেছনে আছে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সার্কেলে ৪টিতে ২টি জয়, ১টিতে ড্র ও ১ হারে রয়েছে পাঁচ নম্বরে। পয়েন্ট ২৮।
দল যখন ভালো করছে, নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার তাড়না অনুভব করছেন শান্ত। এজন্য বড় দলগুলোর বিপক্ষে বেশি খেলার কথা বলছেন, ‘‘আমরা টেস্ট ম্যাচ খেলতে চাই। আমরা প্রত্যেকটা দলের সাথে খেলতে চাই। আমার মনে হয় যে এখন অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত এই দলগুলোর সাথেও আমরা বেশি বেশি টেস্ট খেলতে চাই। হোম এন্ড এওয়ে বোথ।’’
তার বিশ্বাস, ‘‘আমরা যখন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবো। এই নতুন অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের যখন হবে তখনই দল আস্তে আস্তে আরো ভালো গড়ে উঠবে। অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের যখন হবে তখনই দল আস্তে আস্তে গড়ে উঠবে। অন্যথায় একই দলের সঙ্গে বারবার খেলা, একই কন্ডিশনে খেলা…এটাতে আসলে দল গড়া কঠিন।’’
শান্তর আশা, ‘‘আইসিসি আমাদের বেশি বেশি সব দলের সাথে টেস্ট ম্যাচ দেবেন। এখন আমরা বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি। এটা একটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত উনাদের সাথেও যদি আমরা আরও বেশি বেশি ম্যাচ খেলতে পারি অবশ্যই এটা আরও ভালো হবে আমাদের দলের জন্য।’’
শান্তর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ‘‘এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা এই ধারাবাহিকতা কীভাবে ধরে রাখি। একই সঙ্গে, কীভাবে আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সামনে আমাদের দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন দলের বিপক্ষে ম্যাচ আছে। সেখানে আমরা কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারি, সেটাই আসল বিষয়।’’
শান্তর কাছে গর্বের জায়গা হচ্ছে ক্রিকেটারদের মানসিকতার পরিবর্তন। দুই টেস্টে ম্যাচ পঞ্চম দিন পর্যন্ত নেওয়া, শেষ পর্যন্ত লড়াই করা, হার না মানা মানসিকতা শান্তকে বেশ গর্ব করাচ্ছে, ‘‘জয়-পরাজয় তো খেলায় থাকবেই। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে লড়াই করে খেলা এবং শক্তিশালী দলগুলোকে কঠিন সময় উপহার দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। একজন অধিনায়ক হিসেবে আমি সবসময় ভাবি, কীভাবে দলটাকে আরও উন্নতির দিকে নেওয়া যায়।’’
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের চক্রে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে দুই টেস্ট খেলবে। আগামী বছর ইংল্যান্ড আসবে অ্যাওয়ে সিরিজ খেলতে। সামনের পথটা কঠিন হবে নিশ্চিতভাবেই। তবে বর্তমান ফর্ম, প্রেরণা, বিশ্বাস থাকলে বড় দলকেও মাটিতে নামিয়ে আনা সম্ভব।