ক্যাম্পাস

ভর্তি ফি কমানোসহ তিন দাবিতে বেরোবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি

বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করে পূর্বনির্ধারিত ফি পুনর্বহাল এবং ঈদযাত্রায় বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনের বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শওকাত আলীর কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ সময় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম, সহসভাপতি তুহিন রানাসহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি ১৭ তম ব্যাচের ভর্তি ফি হঠাৎ করে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অসহনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে এ বাড়তি ফি বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় তিন দফা দাবি জানায় ছাত্রদল। দাবিগুলো হলো— অতিরিক্ত বর্ধিত ফি দ্রুত প্রত্যাহার, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য বিবেচনায় পূর্বনির্ধারিত ফি পুনর্বহাল এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা বজায় রাখা।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী ও দূরবর্তী বিভাগীয় শহরের শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ি ফেরার বিষয়টি আরও দুর্ভোগের হয়ে ওঠে।

এ কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানানো হয়। প্রতি বছর ঈদের ছুটির শুরুতে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ ‘ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস’ চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া, ঈদুল আজহার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিশেষ খাবারের ব্যবস্থার দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে বেরোবি উপাচার্য ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, “আগের যে প্রশাসন ছিলো তারাই ভর্তি ফি’সহ অন্যান্য ফি বৃদ্ধি করেছে। গতবারেও ১৬ তম ব্যাচের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে বলে আমি মিনিমাইজ করেছি। ১৭ তম ব্যাচের ফি যে পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে তা ঐ তুলনায় কম। যদি ফি কিছুটা কমানো হয় তবুও এটা একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।” এ সময়, বাস চালুর বিষয়ে পরিবহন পুলের সাথে আলোচনায় বসা‌ হবে এবং শিক্ষার্থীদের দাবির আগেই ঈদুল আজহার দিন বিশেষ খাবার আয়োজনের কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে, বলেও জানান তিনি।