ক্যাম্পাস

গণরুম নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিত আবাসন চাই: ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসন এবং দ্রুত শিক্ষার্থীবান্ধব সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা। এ সময় প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা ও নীতিগত অস্পষ্টতার সমালোচনা করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ডাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা ও নীতিগত অস্পষ্টতার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে হলগুলোতে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত সাতটি ব্যাচ একসঙ্গে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় পুনঃভর্তি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিথিলতা দেখানো হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠবে।

বিজয় একাত্তর হল সংসদের জিএস আশিক বিল্লাহ বলেন, “পুনঃভর্তি ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শৈথিল্য প্রদর্শন করা হলে একসঙ্গে ১০-১১টি ব্যাচ হলে অবস্থান করবে। এতে সিট সংকট চরম আকার ধারণ করবে এবং গণরুম সংস্কৃতি অনিবার্য হয়ে উঠবে। তাই সিট বণ্টন নীতিমালায় কোনো ধরনের আপস চলবে না।”

নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আসিফ ইমাম। তিনি বলেন, “মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি সংখ্যায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় আবাসিক সুবিধা থেকে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো নীতিমালা চাপিয়ে দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, “এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়ন করতে না পারা প্রশাসনের গাফেলতির প্রমাণ। প্রশাসনের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, তারা ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের হাতে হলের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবে।”

সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ, বৈষম্যহীন ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে গণরুম সংস্কৃতি বন্ধ এবং আবাসন সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, বিজয় একাত্তর হল সংসদের জিএস আশিক বিল্লাহ ও এজিএস ইমরান হোসাইন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আসিফ ইমাম, এজিএস ফুজায়েল আহমেদ ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাদিক মুনেম, শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান, জসীম উদ্দীন হল সংসদের এজিএস হিজবুল্লাহ আল হিজুল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি আহসান হাবিব ইমরোজ, ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হল সংসদের ভিপি তারেকুল ইসলাম, ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি খন্দকার মোহাম্মদ আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসান, অমর একুশে হল সংসদের জিএস মো. রবিউল ইসলাম এবং এজিএস উবায়দুর রহমান হাসিব।