সারা বাংলা

সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর বাহিনীর কবলে ১৮ জেলে, আতঙ্ক

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর তৎপরতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এক সপ্তাহে দুই দফায় অন্তত ১৮ জেলেকে অপহরণ করেছে এই বাহিনীর সদস্যরা। সুন্দরবনের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ গত বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে ৬ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে নিয়ে যায় তারা। এতে সুন্দরবনে মাছ ও মধু আহরণে যাওয়া জেলে-মৌয়ালীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অপহৃতরা হলেন, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের দুই ভাই হাফিজুল (২৪) ও ফাইজুর (২০), বেল্লাল মীর (৩৫), ছলেমান (৪০), বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের হাসিব (২১) এবং অপর এক অজ্ঞাত জেলে।

স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের অভিযোগ, সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে বনাঞ্চলে যেতে এখন তাদের প্রাণ হাতে নিয়ে যেতে হচ্ছে। দ্রুত বনদস্যু দমন ও অপহৃতদের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাতে শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়াখালী এলাকার নদীতে মাছ ধরার সময় নৌকা ও ট্রলারে হামলা চালিয়ে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা ৬ জেলেকে অপহরণ করে। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে একই বাহিনী শরণখোলা রেঞ্জের ফুসফুসের চর এলাকা থেকে আরও ১২ জেলেকে অপহরণ করে। 

টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, অপহৃতদের মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনের গভীরে আটকে রাখা হয়েছে। জাহাঙ্গীর বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে জেলে ও মৌয়ালীদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করছে। অপহৃত ১৮ জেলেকে উদ্ধারে স্মার্ট পেট্রোলিং টিমসহ বনরক্ষীরা অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামিনুল হক বলেন, সুন্দরবনে ছয় জেলে অপহরণের বিষয়ে তিনি এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।