ক্যাম্পাস

গবিতে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক

র‍্যাগিংয়ের দায়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) এক শিক্ষার্থীর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিলেও উপস্থিতি ও নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া লিখিত পরীক্ষা আজ শেষ হয়েছে। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর একই বিভাগের ৩৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শের আলীকে র‍্যাগিং এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে আইন বিভাগের ২৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

পরবর্তীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। ৪ এপ্রিল আদালত তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাসে ৫৫ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকলে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। ফলে অনেকের প্রশ্ন, কোন নিয়মের ভিত্তিতে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলো।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী বহিষ্কার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু থেকে ক্লাস করতে পারেননি তরিকুল। তাই তার উপস্থিতির বিষয়টি এখানে গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের অনুমতির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় তার পরীক্ষা গ্রহণ করেছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, “আদালতের আদেশের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা দিচ্ছি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভন বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র সংসদের সম্মতিতে তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেখানে কীভাবে সে পরীক্ষা দিতে পারে? পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতাই তার নেই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গর্ভধারিণী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় পরীক্ষা দিতে দেয়নি প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ কীভাবে এত বৈষম্য করছে, প্রশ্ন থেকেই যায়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, “কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিরোধী, চরমপন্থি ও নীতিবহির্ভূত কাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী তাকে আজীবন বহিষ্কার করা যেতে পারে। তবে বহিষ্কারের কারণে শিক্ষাজীবনে প্রভাব না ফেলতে আদালত চূড়ান্ত রায়ের আগে অনেক সময় শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে থাকে।”

ইউজিসির উপ-পরিচালক নাসিমা আক্তার খাতুন বলেন, “আদালতের আদেশ মেনে নিতে হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বলেন, “আদালতের আদেশের মাধ্যমেই তাকে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি শুধু পরীক্ষা দিতে পারবেন। আদালতের রায়ে জয়ী হওয়ার আগ পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত থাকবে।”