সারা বাংলা

আরব আমিরাত থেকে এলো ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি ফসিল’। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশে আসা দ্বিতীয় ক্রুড অয়েলের চালান এটি।

প্রায় ২৪৯ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজটি শুক্রবার (২২ মে) ভোর রাতে বহির্নোঙরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. মোস্তাফিজার রহমান। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, কাস্টমস ও সার্ভেয়ার কোম্পানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাহাজটি লাইটারিং প্রক্রিয়া শুরু হবে। ছোট ট্যাংকার জাহাজে করে তেল পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নেওয়া হবে। এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় লাইটার জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আছে। লাইটারিং কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও পরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল ও অকটেন আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বিপিসির জন্য ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল লোড করা থাকলেও হরমুজ প্রণালীতে অস্থিতিশীলতার কারণে সেটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে আছে। এ অবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে নতুন চালান আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ গত ৬ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে সফলভাবে তেল খালাস করে। সেসব তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছানোর পর পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয়।

বিপিসি সূত্র জানায়, ইয়ানবু বন্দর থেকে আরও প্রায় ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ৩০ মে নতুন চালান লোড হওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে। এর মাধ্যমে এলপিজি, ডিজেল, অকটেন, পেট্রল, কেরোসিন ও ফার্নেস অয়েলসহ ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদিত হয়। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে প্রতিষ্ঠানটি।