নাটোরের নলডাঙ্গায় তিন ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে পুকুর খননের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (২২ মে) রাতে নলডাঙ্গা উপজেলার বিপ্র-বেলঘড়িয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর দিয়ারপাড়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার দায়ে মো. মিন্টু প্রামাণিক (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার কয়েক খণ্ড তিন ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে পুকুর খনন ও বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে শুক্রবার রাতে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ৪টি ব্যাটারিচালিত যান জব্দ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নলডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশিকুর রহমান। এ সময় নলডাঙ্গা থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অভিযানে সহযোগিতা করেন।
নলডাঙ্গা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী বলেছেন, “তিন ফসলি কৃষিজমি দেশের খাদ্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব জমির মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষিজমি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, “অবৈধভাবে মাটি কেটে পরিবেশ ও ফসলি জমির মারাত্মক ক্ষতি করা হচ্ছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খাঁন বলেছেন, “কৃষিজমি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা, পুকুর খনন কিংবা কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনোভাবেই কৃষিজমি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।”
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে একদিকে যেমন আবাদি জমি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। তাই এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা উচিত।