সারা বাংলা

পাটুরিয়া ও আরিচায় ভোগান্তি এড়াতে নানা উদ্যোগ, তবুও শঙ্কা 

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে এই দুটি নৌরুটে যানবাহন পারাপারের আনুপাতিক হার কমলেও ঈদ মৌসুমে তা কয়েকগুন বেড়ে যায়।

ঈদুল ফিতরের সময় রাজধানী থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ থাকে পাটুরিয়ায়। তবে, ঈদুল আজহায় রাজধানীগামী পশুবাহী যানবাহন এবং রাজধানী থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন ও যাত্রীদের ভীড় বাড়ায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া উভয় ঘাটে চাপ বাড়ে। এসব বাড়তি যানবাহন ও যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। ঘাট সংশ্লিষ্টদের দাবি, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাটে চাপ বাড়লেও ভোগান্তি হবে না। 

সম্প্রতি পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শন করে ভোগান্তি এড়াতে নানা নির্দেশনা দিয়েছেন নৌমন্ত্রী রাজিব আহসান ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের চ্যানেলে স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে আরিচা থেকে কাজিরহাট ১৩ কিলোমিটার   নৌপথ ফেরিতে পারাপারে দেড় ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় লাগে। স্রোত থাকায় বর্তমানে ফেরিগুলোকে নৌপথ পাড়ি দিতে ২ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। তবে, কাজিরহাট থেকে আরিচামুখী ফেরিগুলোর ফিরে আসতে এক ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট সময় লাগছে। স্রোতের কারণে প্রতি ট্রিপে কাজিরহাটমুখী ফেরিগুলোকে কমপক্ষে ২০ মিনিট বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। 

পাটুরিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে, পন্টুন থেকে সংযোগ পর্যন্ত গাড়ি ওঠানামার সড়কে সম্প্রতি কাজ করা হলেও সামান্য বৃষ্টিতে তা সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে এমনটি ধারণা করছেন পরিবহন চালকরা। তারা জানান, ফেরিতে গাড়ি লোড আনলোডের সড়কগুলো ঢালু হওয়ায় যানবাহন চালকদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এতে করে ঘাট এলাকায় ফেরিতে যানবাহন ওঠা-নামায় সময় বেশি লাগছে। যাত্রীবাহী ও পশুবাহী যানবাহনের ভীড় বাড়লে পন্টুন সড়ক দিয়ে ফেরিতে উঠতে স্বাভাবিকের চেয়ে সময় বেশি লাগবে। ফলে ঘাট এলাকায় যানবাহনের সিরিয়াল বৃদ্ধি পেতে পারে।

ফেরিতে উঠার এই সড়কটি বৃষ্টির সময় দুর্ভোগের কারণ হতে পারে এমনটি ধারণা করছেন পরিবহন চালকরা।

এদিকে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট বারবার ভাঙনের কবলে পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে তা সরিয়ে কড়ই তলায় নেওয়া হচ্ছে। ফেরিঘাট পাঁচটি সচল থাকলেও তিন মিটার পানি বৃদ্ধি পেলে পাঁচ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যানবাহন চালকরা জানান, ঈদ মৌসুমে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকে থাকা। ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হলেও নদীর স্রোত ও টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো নদী পারাপারে অনেক সময় ব্যাহত হয়। 

শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‍“ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘাট ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হবে।” 

তিনি বলেন, “যানবাহনের চাপ বাড়লেও যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম না ঘটে, সে জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য আলাদা লেন ও সিরিয়াল নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।”

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকার বলেন, “কয়েক দফা পাটুরিয়া ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রতিমন্ত্রী নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। ঈদের সময় যানজট এড়াতে পাটুরিয়া বাস টার্মিনাল সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের টিম সার্বক্ষনিক মনিটর করবে।” 

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, “প্রাকৃতিক কারণে নদী পারাপারে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে পাঁচটি বড় ফেরি চলাচল করবে। পারাপারে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও পর্যাপ্ত ফেরি থাকায় ভোগান্তি হবে না।”  

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক ( বাণিজ্য) সালাম হোসেন বলেন, “পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করবে। যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে ৯টি বড়, পাঁচটি মাঝারি ও তিনটি ছোট ফেরি প্রস্তুত রয়েছে।” 

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, “ফেরিতে উঠার সড়কের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও আগাম প্রস্তুতির কারণে এবার বড় ধরনের ভোগান্তি হওয়ার আশঙ্কা কম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো সংকটে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”