উন্নত কর্মসংস্থান ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ফরিদপুরের রথখোলা যৌনপল্লীতে বিক্রির চেষ্টাকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি বগুড়া জেলায়। তিনি ঢাকার ধামরাইয়ে মায়ের সঙ্গে থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সেখানে তার সঙ্গে মনির শেখ (৩০), আলম ফকির (২০) ও মুন্নি (২০) নামে তিনজনের পরিচয় হয়। অভিযুক্তরা ধামরাই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ভুক্তভোগী জানান, অভিযুক্তরা তাকে ভালো চাকরি এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এরপর গত ১৪ মে কৌশলে তাকে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে কিছুদিন আটকে রাখার পর গত ২১ মে সকালে তাকে রথখোলা যৌনপল্লীতে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
বিষয়টি টের পেয়ে ওই তরুণী ভেতরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে জোর জবরদস্তি শুরু করে। একপর্যায়ে তরুণী চিৎকার করে দৌঁড়ে পালিয়ে গিয়ে সামনের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত তিনজনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং আটক তিনজনকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে তানিয়া ও দুখু নামে আরো দুজন জড়িত। তারা বর্তমানে পলাতক।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।