অর্থনীতি

কমলাপুর হাটে এখনো আসছে পশু, ক্রেতার অপেক্ষা

ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানির পশু এসে পৌঁছাচ্ছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর পশুর হাটে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সমাগম বাড়লেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা।

শনিবার (২৩ মে) গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী হাট—কমলাপুর পশুর হাটে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু নিয়ে খামারি ও ব্যাপারীরা আসতে শুরু করেছেন। সড়কপথের পাশাপাশি এবার রেলে করেও বিপুল পরিমাণ পশু কমলাপুরে এসে পৌঁছেছে। রেলপথের পাশাপাশি সড়কপথে ট্রাকযোগে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে কমলাপুর হাটে আসছেন।

কমলাপুর রেলস্টেশনের আশপাশের খালি জায়গা, টিটিপাড়া ও আশপাশের সড়কগুলোতে বাঁশের খুঁটি গেড়ে ঘেরা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পশুগুলোকে সেসব নির্ধারিত স্থানে সারিবদ্ধভাবে গরু বেঁধে রাখছে বেশিরভাগ জায়গায় কানায় কানায় ভরে গেছে। গরু ও ছাগল-মহিষ ঈদের আগ পর্যন্ত এই হাটে আরো  আসবে বলে পাইকারদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে। জামালপুরের পাইকার মোস্তফা আলী বলেন, শনিবার সকালে ১৭টি গরু নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখনও একটা গরু বিক্রি হয়নি। হাটের আাগমী দিনে গরুগুলো বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

পাবনার গরু ব্যাপারি নেজারত আলী বলেন, “শুক্রবার (২২ মে) হাটে ১১টি গরু নিয়ে এসেছি। একটি মাত্র মাঝারি সাইজের গরু বিক্রি করেছি। বাকিগুলো বিক্রি হয়ে যাবে।”

সরেজমিন জানা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বিক্রেতা ও খামারিদের মধ্যে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। এর পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে। দেশের সীমান্তঘেঁষা হাটগুলো বন্ধ থাকা এবং ভারত ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে পশুর প্রবেশ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বাজার এখন পুরোপুরি দেশীয় পশুর ওপর নির্ভরশীল। গত বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণে দেশের কিছু বড় বড় খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এবার বাজারে পশুর অতিরিক্ত কৃত্রিম চাপ নেই।

মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, “হাটে চুরি, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য জাল টাকা ব্যবহার রোধসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

হাট ইজারাদার ইসমাইল হোসেন বলেন, “আগামী দুই এক দিনের ভেতরেই হাট জমে উঠবে। এখন ক্রেতারা এসে ঘুরে ঘুরে দেখছেন, বাছাই করছেন। গতবারের তুলনায় এবার পশুর সংখ্যাও অনেক বেশি।”