সারা বাংলা

ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করলেন বিএনপি নেতারা

খুলনার দাকোপ উপজেলায় র‌্যাবের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর আবার র‌্যাবের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় আসামিদের সোপর্দ করার পর র‌্যাব সদস্যরা তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করে।

এর আগে শনিবার, বেলা ১১টার দিকে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার চালনার আচাঁভুয়া বাজার এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ লোকজন র‌্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে ছিনিয়ে নেয়।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের বাইরের প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে আবদুল্লাহ ফকির, বাবলু সানা ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি খোনা এলাকার মুকুন্দ মন্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজীদের সঙ্গে এই ঘের নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। 

গত ১৬ মে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ঘেরটি দখলের চেষ্টা চালালে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে দাকোপ থানায় মুকুন্দ মন্ডল, রসুল গাজী ও বাচ্চুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এরপর গত শুক্রবার (২২ মে) রাতে আবদুল্লাহর পক্ষের লোকজন ঘেরে মাছ ধরার সময় বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে আবারো হামলা চালানো হয়। এতে জসিম মোল্লা, হাফিজুর মোল্লাসহ ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবারের মামলার প্রতিবাদে শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে বাচ্চু ফকিরের লোকজন উপজেলা সদর চালনায় বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করেন।

তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় আচাঁভুয়া বাজার এলাকায় বাচ্চু ফকিরের সমর্থকরা র‌্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা র‌্যাবের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনার পর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন দলীয় নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান, চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফার হোসেন ও সদস্য সচিব আলামিন সানা হোসেন বলেন, “সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বন্দোবস্তকৃত ও সরকারি জমি জোর করে দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ ফকির ও রাশেদ কামালের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। খুলনা থেকে র‌্যাব সদস্যরা এসে বিক্ষোভ মিছিল থেকে লোক তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি।”

তবে র‌্যাবের গাড়ি ভাঙচুর এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন।

এদিকে ঘটনার পর দুপুর ২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন মৎস্য ঘেরের অংশীদার মো. বাবলু সানা। তিনি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, আসামিরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক তাদের ঘের থেকে মাছ ধরে নিয়ে গেছে এবং কেয়ারটেকারকে মারধরের হুমকি দিয়েছে।

এ বিষয়ে দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল বাসার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬ এর কমান্ডার লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে সন্ধ্যার আগে স্থানীয় বিএনপি নেতারা র‌্যাবের কাছে সোপর্দ করেছে। আমরা তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করেছি।