সারা বাংলা

মৌলভীবাজারে গভীর রাত পর্যন্ত পশু বেচাকেনা

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ৫৭টি পশুরহাটে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা জমে উঠেছে। এ সব হাটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।  

সোমবার (২৫ মে) সরেজমিন জেলার মৌলভীবাজার, টেংরা, ব্রাহ্মণবাজার, শমশেরনগর, দিঘিরপারবাজারসহ বিভিন্ন পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় খামারি ও পাইকাররা গরু, মহিষ, ছাগল নিয়ে হাটে আসছেন। অনেক ক্রেতা পছন্দের পশু কিনছেন। আবার কেউ কেউ দাম কমার আশায় শেষ দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের দেশীয় গরুর চাহিদা বেশি।

ক্রেতারা বলছেন, বড় গরুর দাম কিছুটা সহনীয় হলেও ছোট ও মাঝারি গরুর দাম তুলনামূলক বেশি হাঁকছেন বিক্রেতারা।

টেংরা বাজার থেকে মাঝারি আকারের গরু কিনেছেন সামাদ মিয়া। তিনি বলেন, বাজারে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি। দাম বেশি চাওয়ার কারণে ক্রেতারা মনস্থির করতে না পেরে ঘুরাঘুরি করছেন।

খামারিরা বলছেন, গবাদিপশুর খাদ্য ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় পশুর দামও বেড়েছে। 

মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলার পদিনাপুর গ্রামের খামারি জাবেদ আহমদ জানান, তার খামারের ৬০টি গরুর মধ্যে অর্ধেক বিক্রি হয়েছে। লোকসানে বিক্রি করবেন না। গরু লালন-পালনে খরচ বেশি হওয়ায় দামও বেড়েছে। 

গরু ব্যবসায়ী খোকন মিয়া বলেন, এবার গরুর বেচাকেনা কম। কোরবানি দেওয়া মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। আর ইউরোপ প্রবাসীরাও আগেরমতো হাকঢাক দিয়ে কোরবানি দেন না।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল আলম খান বলেন, এবার মৌলভীবাজারে কোরবানির জন্য ৭৪ হাজার ৫৮৪টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার চাহিদা রয়েছে ৭১ হাজার ৭৭২টি। চাহিদার তুলনায় ২ হাজার ৮১২টি পশু বেশি রয়েছে। 

হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম এবং নিরাপত্তার জন্য পুলিশের নজদরদারি রয়েছে বলে জানান তিনি।