বিশ্বকাপ শুধু গৌরবের মঞ্চ নয়, এটি স্বপ্ন, ঘাম, চাপ আর আত্মত্যাগেরও গল্প। মাঠে একটি জয় যেমন কোটি মানুষের উল্লাস এনে দেয়, তেমনি খেলোয়াড়দের কাঁধে চাপিয়ে দেয় বিশাল দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব ও প্রেরণাকে আরও বড় করতে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নজিরবিহীন পুরস্কার কাঠামো ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল সংস্থা। এবার বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করতে পারলে দেশটির ফুটবলারদের জন্য অপেক্ষা করছে বিশাল আর্থিক পুরস্কার।
সোমবার দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল সংস্থা জাতীয় দলের জন্য নতুন বোনাস কাঠামো ঘোষণা করেছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি ধাপে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই পুরস্কার দেওয়া হবে।
বিশ্বকাপের নতুন সম্প্রসারিত কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে এই পুরস্কার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। আগে যেখানে ৩২টি দল খেলত, এখন অংশ নেবে ৪৮টি দল। ফলে নকআউট পর্বে একটি অতিরিক্ত ধাপও যুক্ত হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ২৬ সদস্যের প্রতিটি ফুটবলারের জন্য শুরুতেই নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ কোটি ওন অংশগ্রহণ বোনাস। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যেখানে এই পরিমাণ ছিল ২ কোটি ওন। টানা ১১তম বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবেই এই বোনাস দিচ্ছে ফুটবল সংস্থা।
তবে আসল বড় পুরস্কার শুরু হবে গ্রুপপর্ব পেরোনোর পর। ৩২ দলের নকআউট পর্বে উঠলেই প্রতিটি খেলোয়াড় পাবেন ১০ কোটি ওন।
এরপর প্রতিটি ধাপে বোনাস বাড়তে থাকবে- শেষ ১৬ তে উঠলে ২০ কোটি ওন, কোয়ার্টার ফাইনালে গেলে ৩০ কোটি ওন, সেমিফাইনালে উঠলে ৪০ কোটি ওন। ফাইনালে উঠতে পারলে মিলবে ৫০ কোটি ওন।
আর যদি দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপ জিতে যায়, তাহলে প্রতিজন খেলোয়াড় পাবেন ৬০ কোটি ওন। তৃতীয় স্থান অর্জন করলে বোনাস নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ কোটি ওন। এর বাইরে আলাদা ম্যাচভিত্তিক পুরস্কারও থাকবে।
গ্রুপপর্বে প্রতিটি জয়ে একজন খেলোয়াড় পাবেন ৩ কোটি ওন। ড্র করলে মিলবে ১ কোটি ওন।
নকআউট পর্বে এই অঙ্ক আরও বাড়বে- ৩২ দলের পর্বে জয় পেলে ৫ কোটি ওন, শেষ ১৬-তে ৮ কোটি ওন, কোয়ার্টার ফাইনালে ১৪ কোটি ওন, সেমিফাইনালে ২০ কোটি ওন। ফাইনালে জয় এলে আরও ৩০ কোটি ওন অতিরিক্ত যুক্ত হবে।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যদি বিশ্বকাপ জিতে যায়, তাহলে একজন ফুটবলার বোনাস ও ম্যাচভিত্তিক পুরস্কার মিলিয়ে ১০০ কোটিরও বেশি ওন পেতে পারেন। অর্থাৎ বিশ্বকাপে শিরোপা জিতলে একজন খেলোয়াড় কার্যত শতকোটি ওনের মালিক হয়ে যেতে পারেন।
শুধু আর্থিক পুরস্কারই নয়, খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি সহায়তাও ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
প্রতিটি খেলোয়াড়কে দেওয়া হবে ২টি ডাবল হোটেল কক্ষ। পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচে পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠজনদের জন্য ৪টি প্রথম শ্রেণির টিকিট দেওয়া হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, “বিশ্বকাপ এবার প্রথমবারের মতো ৩ দেশে হচ্ছে এবং টুর্নামেন্টের পরিধিও অনেক বড়। এতে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়বে। তাই ইতিহাসের সর্বোচ্চ পুরস্কার ও সহায়তা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রতিটি ধাপে স্পষ্ট পুরস্কার নির্ধারণ করে জাতীয় দলকে বড় প্রেরণা দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে।
এখন দেখার বিষয়- দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলাররা এই বিশাল প্রণোদনাকে মাঠের লড়াইয়ে কতটা শক্তিতে রূপ দিতে পারেন। কারণ বিশ্বকাপে কখনও কখনও একটি স্বপ্নের মূল্য শুধু ট্রফিতে নয়, ইতিহাসেও মাপা হয়।