সারা বাংলা

নতুন ঠিকানায় কাজলা পশুর হাট, ক্রেতা কম পশু বেশি 

কোরবানির ঈদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসে। এবার যাত্রাবাড়ী এলাকার অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে নতুন ঠিকানায়, ঢাকা-ডেমরা সড়কের পাশে কাজলা থেকে পূর্ব দিকে মাতুয়াইল পর্যন্ত। আগে এই হাট বসত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দনিয়া কলেজ মাঠ এলাকায়। 

পূর্ব পশ্চিমে প্রায় ২ কিলোমিটার বিস্তৃত এই হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু নিয়ে এসেছে খামারিরা। কিন্তু যে সংখ্যক গরু বাজারে উঠেছে, সেই তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা খুব কম। এখন ক্রেতা কম হলেও আগামী দুই দিনে চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছে গরু ব্যবসায়ীরা।

এ দিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাজারে আশপাশে বৃষ্টির পানি ও পশুর বর্জ্যে একাকার হয়ে গেছে। এতে কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানান পশু ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে সরেজমিন কাজলা পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে সারি সারি বাঁশের খুঁটি আর ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী শেড। সেখানে বাঁধা রয়েছে বিভিন্ন আকারের গরু, ষাঁড়, মহিষ ও ছাগল। বড় গরুর পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট আকারের গরু হাটে উঠেছে। পশুর যত্নে কেউ খড় দিচ্ছেন, কেউ ঘাস খাওয়াচ্ছেন, কেউ গরম পানি করছেন পশু খাবারের জন্য, কেউ আবার ক্রেতা আসলে তাদের সঙ্গে দরদাম করছেন। এই হাটে কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে এসেছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। অনেকে কয়েক দিন আগে এসে অবস্থান নিয়েছেন হাটে। হাটে পশুর চেয়ে ক্রেতা কম দেখা গেছে। 

গরু ব্যবসায়ীরা জানান, বেচাকেনা হচ্ছে কিন্তু কম। বেশিরভাগ মানুষ এসে গরু দেখে যাচ্ছে। তারা পরে কিনবে। আবার কেউ কেউ দামে মিললে কিনে নিচ্ছে। তবে শহরে গরু ছাগল রাখার জায়গার স্বল্পতার কারণে অনেকে চাঁদ রাতে কোরবানির পশু কিনে।  তাছাড়া প্রতিদিন কিছু না কিছু বিক্রি হচ্ছে। এখনো আরো দুই দিন ঈদের বাকি থাকার কারণে তারা আশা করছেন, বিক্রি ভালো হবে।

পাবনা থেকে আসা ব্যবসায়ী জলিল আহমেদ বলেন, ‘‘এবার নতুন জায়গায় হাট হওয়ায় প্রথমে একটু চিন্তা ছিল। কিন্তু এখন দেখছি পরিবেশ ভালো। আমি ২৬টি গরু নিয়ে এই হাটে এসেছি। এখন পর্যন্ত তিনটি বিক্রি করেছি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এই হাটে নেই। রাস্তা একটু খোলা, জায়গাও আগের চেয়ে বেশি। ক্রেতা কম আসছে। তবে আরো দুই দিন বাকি, আমরা আশা করছি ভালো বিক্রি হবে।”

হাট ঘুরে দেখা যায়, বড় গরুর পাশাপাশি মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার বাজেটের মধ্যে ভালো পশু খুঁজছেন। ক্রেতাদের কেউ পশুর দাঁত দেখে বয়স বোঝার চেষ্টা করছেন, কেউ শরীরের গঠন দেখছেন, কেউ আবার ওজন আন্দাজ করছেন।

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা মোহাম্মদ ঈমন স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, “আগে দনিয়া কলেজ মাঠের হাটে গেলে খুব ভিড় আর বিশৃঙ্খলা থাকত। এবার জায়গাটা তুলনামূলক খোলামেলা। বাসা থেকে হেটে হাটে আসছি। পরিবার নিয়ে এসে স্বস্তিতে পশু দেখা যাচ্ছে।”

হাটে শুধু কেনাবেচাই নয়, যেন এক ধরনের উৎসবের আমেজও তৈরি হয়েছে। শিশুদের অনেকে বড় বড় গরু দেখে বিস্মিত। কেউ ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে লোকজন হাটে কম।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও ইজারাদারদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। হাটের ভেতরে আলাদা প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে রয়েছে ব্যাংকের বুথ। স্বেচ্ছাসেবকেরা মানুষকে চলাচলে সহায়তা করছেন। বৃষ্টির পানি ও পশুর বর্জে্য ক্রেতা বিক্রেতাদের যাতে চলাচলের বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য সেচ্চাসেবকরা বালি দিয়ে সেগুলো ঠিক করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আগের তুলনায় এবার পশুর হাট খুবই সুশৃ্ঙ্খল। রাস্তার ওপর চাপ কিছুটা কম। কারণ হাটটি পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এতে ক্রেতাদের চলাফেরা সহজ হচ্ছে।

মাতুয়াইল এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ মোল্লা উজ্জল বলেন, “আগে হাটে গেলে কাদা, দুর্গন্ধ আর ধাক্কাধাক্কিতে খুব কষ্ট হতো। এবার তুলনামূলক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি ও পশুর বর্জ্য যতই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য হাট ইজারাদার চেষ্টা করছে তবুও কিছু সমস্যা হচ্ছে।’’

হাট পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানির নেই এই বাজারে।

এদিকে পশুর দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিক্রেতারা বলছেন, পশুর খাবার, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার দাম কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বাজেটের তুলনায় দাম বেশি চাচ্ছে ব্যবসায়িরা।

কুষ্টিয়া থেকে আসা খামারি সোহেল রহমান বলেন, “একটা গরু বড় করতে অনেক খরচ হয়। খাবারের দাম অনেক বেড়েছে।’’