যুগের পর যুগ ধরে বাঙালির কল্পনার জগতে রোমাঞ্চ ছড়ানো কিংবদন্তি চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ এবার ফিরছে রূপালি পর্দায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নানা জল্পনা-কল্পনা এবং প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তি পাচ্ছে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের যৌথ প্রযোজনার বহুল আলোচিত সিনেমা ‘মাসুদ রানা’। নির্মাতাদের দাবি, এবারের ঈদে দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় বিনোদনের আয়োজন হতে যাচ্ছে এই মেগা প্রজেক্ট।
সিনেমাটির প্রযোজক ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ জানান, বিশাল বাজেট ও বড় ক্যানভাসের কারণে এককভাবে সিনেমাটি নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না। তাই প্রযোজনায় যুক্ত হয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে সিনেমাটি মুক্তির মুখ দেখছে। ইতোমধ্যেই সিনেমাটি আনকাট সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে এবং সেন্সর বোর্ড সদস্যদের কাছ থেকেও প্রশংসা অর্জন করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রেলার ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় ‘এআই’ ব্যবহারের বিতর্ক। বিশেষ কিছু দৃশ্য দেখে অনেকেই দাবি করেন, প্রধান চরিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন আবদুল আজিজ।
তার ভাষ্য, “মাসুদ রানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা। কোনো এআই চরিত্র ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিটি দৃশ্যে সে নিজেই অভিনয় করেছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার জন্য কিছু ভিএফএক্সের সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সমন্বয় করা হয়েছে।”
চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘কে হবেন মাসুদ রানা’-এর বিজয়ী রাসেল রানা এই সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, “বইয়ের পাতায় যেমন মাসুদ রানার জীবনে প্রতিনিয়ত বিপদ আসে, তেমনি এই সিনেমার যাত্রাপথেও ছিল নানা বাধা। করোনা মহামারি থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর অনুমতি—সবকিছু মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ও শ্রম দিতে হয়েছে। অবশেষে ঈদে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে, এখন রায় দেবেন দর্শক।”
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা সৈকত নাসির। তিনি মনে করেন, “মাসুদ রানা বাংলাদেশের জেমস বন্ড।” তাই চরিত্রটিকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের স্ক্রিন প্রেজেন্স দিতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তার দাবি, এটি আগের যেকোনো ‘মাসুদ রানা’ উপস্থাপনা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আধুনিক নির্মাণ।
সিনেমাটির আরেকটি বড় আকর্ষণ এর নতুন মুখের কাস্টিং। জনপ্রিয় চরিত্র ‘সোহানা’ রূপে দেখা যাবে পূজা চেরি-কে। আর ‘অবনিতা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৈয়দা তিথি অমনি। থ্রিলার, অ্যাকশন ও রোমাঞ্চে ভরপুর এই সিনেমা ঈদের প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের কতটা মাতাতে পারে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।