চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন। এর আগে, সোমবার রাতে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন।
আলমগীর হোসেন বলেন, “সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।”
এর আগে, রবিবার দিবাগত রাতে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে ত্রিমুখী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার আগে মূল সড়কের একাধিক স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম ও ভাঙা যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আমরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছাই, দেখি রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা হয়েছে। ফলে যানবাহন এগোতে পারেনি। সদস্যদের হেঁটে যেতে হয়েছে। এতে সময় লেগেছে এবং সেই সুযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, “হামলার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০ থেকে ২৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “রাত ১টার পরে হামলা শুরু হয়। সন্ত্রাসীরা প্রবেশপথের বিভিন্ন অংশ কেটে দেয় এবং নির্মাণাধীন নতুন অস্থায়ী ক্যাম্পে হামলা চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেখানে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থায়ীভাবে অবস্থান নিতে না পারে।”
তিনি বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প ছিল। একটি প্রবেশমুখে এবং অন্যটি আলীনগর এলাকায়। নতুন ক্যাম্পটিই ছিল হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্য।”
পুলিশ সুপার বলেন, “হামলাকারীরা চেয়েছিল বাহিনীর সদস্যরা যেন ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারেন। এজন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। পাল্টা জবাবে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা শটগান, চাইনিজ রাইফেল ও গ্যাস গান ব্যবহার করেন।”
তিনি বলেন, “পুরো ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। কঠোর প্রতিরোধের কারণে হামলাকারীরা ক্যাম্পে ঢুকতে পারেনি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি। তবে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ক্যাম্পের কিছু অবকাঠামো ভাঙচুর করা হয়েছে।”
পুলিশের ধারণা, শেষরাতের দিকে হামলাকারীরা পাহাড়ি এলাকায় সরে যায়। বর্তমানে পুরো এলাকায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক থেকে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রবেশ করতে হয়। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি নিয়ে গড়ে ওঠা এ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
গত ৯ মার্চ তৎকালীন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি ও বর্তমান র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হয়। তিনটি হেলিকপ্টারসহ ওই অভিযানে তিন হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। অভিযানের পর এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ও র্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।