ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোবাইল গেম ‘ফ্রী ফায়ার’ খেলতে না পেরে রাহেল ইসলাম (১৫) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে। নিহত রাহেল পীরগঞ্জের ইন্দ্রল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সোমবার (২৫ মে) সকালে উপজেলার ১১ নাম্বার বটচুনা মোল্লাপাড়ায় নিজ ঘর থেকে রাহেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অনেক আগে থেকেই রাহেল ফ্রী ফায়ার গেমে আসক্ত ছিল। প্রায় এক বছর আগে রাহেলের মা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর বাবা রফিকুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই রাহেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফ্রী ফায়ার গেমে আরো বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি কিস্তিতে মোবাইল ফোন কিনেছিল রাহেল। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মোবাইল ফোনের সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলে রাহেল আরও হতাশ হয়ে পড়ে। বাবার কাছে টাকা না পেয়ে, লিচু ভাঙার কাজসহ বিভিন্ন উপায়ে সে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে হাতাশা থেকে সে আত্মহত্যা করে।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে কিশোরদের মধ্যে অনলাইন গেমের আসক্তি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সন্তানদের মানসিক অবস্থার প্রতি আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন প্রামানিক বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই ছেলেটি মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই জানা গেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”