যেকোন উৎসব ফিরে আসে ফেলে আসা দিনের স্মৃতি নিয়ে। উৎসবের সঙ্গে মানুষের প্রাণের দাবি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। কখনও কখনও সেই স্মৃতিতে মিশে থাকে আনন্দ আবার কখনও মিশে থাকে আতঙ্ক। দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান-এর কাছেও কোরবানির ঈদ মানেই আনন্দ আর খানিকটা ভয় মেশানো এক অন্যরকম অনুভূতি।
শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই কোরবানির ঈদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। বিশেষ করে বড় ভাইয়ের সঙ্গে গরুর হাটে যাওয়ার উত্তেজনা ছিল অন্যরকম। জাহিদ হাসানের ভাষায়, “যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই কোরবানির ঈদের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম। কখন বড় ভাইয়ের সঙ্গে গরুর হাটে যাব সেই অপেক্ষা ছিল। কয়েকদিন ঘুরে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরতে কী যে আনন্দ হতো!”
তবে সেই আনন্দের মধ্যেও কাজ করত এক ধরনের অজানা ভয়। গরুর দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ ক্ষেপে গিয়ে কাউকে গুঁতো দেওয়ার আতঙ্ক ছোটবেলার ঈদস্মৃতিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছিল।
জাহিদ হাসান বলেন, “খানিকটা আতঙ্কে থাকতাম— দড়ি ছিঁড়ে যদি গরু দৌড়ে পালায় কিংবা ক্ষেপে গিয়ে যদি কাউকে গুঁতো দিয়ে দেয়! এরকম আতঙ্ক ও আনন্দ নিয়েই বাড়ি ফিরতাম।”
সময়ের সঙ্গে বদলেছে জীবনযাপন। কাজের ব্যস্ততায় এখন আর আগের মতো গরুর হাটে যাওয়া হয়ে ওঠে না এই অভিনেতার। ঈদের ছুটিও কেটে যায় ক্লান্তি দূর করতে করতেই।
আক্ষেপের সুরে জাহিদ হাসান বলেন, “এখন আর সেই আনন্দ নেই। ব্যস্ততায় হাটেও যাওয়া হয় না। কাজের চাপের ক্লান্তি কাটাতেই কেটে যায় ঈদের ছুটির দিনগুলো।”
তবে নিজের শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের মাঝেও বাঁচিয়ে রাখতে চান তিনি। তাই ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের নিয়ে গরুর হাটে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
জাহিদ হাসানের বিশ্বাস, ছোটবেলার এই অভিজ্ঞতাগুলোই একসময় হয়ে উঠবে জীবনের সবচেয়ে মধুর স্মৃতি। তার কথায়, “ওদের ছেলেবেলায় গরুর হাটের স্মৃতি থাকবে না, তা কি হয়!”