সারা বাংলা

বাল্যবিবাহের পাঁচ মাস পরই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় বাল্যবিবাহের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় শামিমা আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরী গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৭ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদি গ্রাম থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত শামিমা পাশের গ্রামের কিশোর সোহানের স্ত্রী ছিল। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের পর সংসারের টানাপোড়েন ও কলহের জের ধরে এই করুণ পরিণতি ঘটেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, কৈশোরের আবেগঘন প্রেমের সম্পর্ক থেকে মাত্র পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় শামিমা ও সোহানের। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এই দম্পতির সংসারে পারিবারিক বিষয় নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়। প্রায়ই তাদের মধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। 

বুধবার সকালে স্বামীর বাড়ির একটি কক্ষে শামিমাকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখে আশপাশের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। 

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজিপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শামিমার এই অকাল ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একইসঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে বাল্যবিবাহের বিষয়টি।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর। কিন্তু শামিমা ও সোহান দুজনেই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। শামিমার মৃত্যুর পর স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন- যখন বিয়েটি হচ্ছিল, তখন কি কেউ জানতেন না যে এটি আইনবিরোধী? যদি জেনে থাকেন, তাহলে কেন তা ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি?

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি কিশোরী জীবনের এমন করুণ পরিণতি যেন আবারো মনে করিয়ে দিল- অপরিণত বয়সে সংসারের ভারী বোঝা চাপিয়ে দিলে অনেক স্বপ্ন নীরবেই ঝুলে যায় ঘরের আড়ায়।