আন্তর্জাতিক

ওমানকে হুমকি দিয়ে নিজের মিত্রদেরই ভয় দেখাচ্ছেন ট্রাম্প: বিশ্লেষক

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ওমানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এমন অপ্রত্যাশিত ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যকে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ‘উদ্বেগজনক’ বলে মনে করছেন। 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) কিং’স কলেজ লন্ডনের গবেষক সমীর পুরি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে  দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘সত্যিই আশ্চর্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার আগে ওমানই ছিল দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ।

সমীর পুরি বলেন, “আঞ্চলিক দ্বন্দ্বগুলো থেকে নিজেকে দূরে রেখে মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে ওমান সবসময়ই খুব দক্ষ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে এসেছে।”

গত বছর কাতারে অবস্থানরত হামাস প্রতিনিধিদের ওপর ইসরায়েলি বোমা হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে এখন আর কোনো দেশ বা লক্ষ্যবস্তুই নিরাপদ নয়।”

তার মতে, “ওমানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি ‘একটি উদ্দেশ্যমূলক বিবৃতি’ বলে মনে হচ্ছে, যার অর্থ- যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করতে দেবে না।” তবে ওমানে বোমা মেরে ইরানের কৌশল পরিবর্তন করা যাবে কিনা, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। 

পুরি বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না ওমানে বোমা মারলে কীভাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের চিন্তাভাবনা বা কৌশলে কোনো পরিবর্তন আসবে। তিনি আরো জানান, ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের কাছেও একটি ‘ভয়াবহ বার্তা’ পাঠালো।

তার মতে,  “ওমানকে নিয়ে এই ধরনের কথা বলা পুরো অঞ্চলে আতঙ্কের ঢেউ সৃষ্টি করবে।”

এদিকে, মার্কিন হুমকির পর ওমানের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে জানান, মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন অন্যায্য হুমকির মুখে ইরান ওমানের পাশে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউজে মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।

বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের ইস্যুতে ওমান যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাকি দেশগুলোর মতো ‘সঠিক আচরণ’ না করে, তাহলে দেশটিকে ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হবে।”