সারা বাংলা

কোরবানির চামড়ার বাজারে হতাশা, লোকসানের শঙ্কায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

কোরবানির ঈদকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীর আতুরার ডিপো, চকবাজার, অক্সিজেন ও কর্ণফুলী এলাকার কাঁচা চামড়ার আড়তগুলো জমে উঠেছে। চট্টগ্রাম নগরী, উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে আসছে কোরবানির পশুর চামড়া। আড়তে চলছে চামড়া প্রক্রিয়াকরণ। তবে, জমজমাট বাজারের ভেতরেও হতাশা আর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম অক্সিজেন আতুরার ডিপু চামড়ার আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। মাঝারি চামড়ার দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বড় গরুর চামড়ার দাম উঠছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত। অথচ, গ্রামের হাট-বাজার কিংবা বাসাবাড়ি থেকে এসব চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের গুনতে হয়েছে আরো বেশি টাকা।

আতুরার ডিপো এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. আলম বলেন, “গ্রাম থেকে বড় চামড়া ৪০০ টাকার কাছাকাছি দামে কিনেছি। গাড়ি ভাড়া, শ্রমিক খরচ আলাদা। এখানে এসে আড়তদাররা ২০০ টাকার বেশি দাম বলতে চাচ্ছে না। তাহলে আমরা কীভাবে টিকব?”

একই অভিযোগ করেন বাঁশখালী থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী আমিন। তিনি বলেন, “ঈদের সময় একটু লাভের আশায় চামড়ার ব্যবসায় নামি। কিন্তু, প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হয়। এবারও সেই অবস্থা।” চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়ার বড় বাজার আতুরার ডিপোর আড়তদাররা জানিয়েছেন, ট্যানারি পর্যায়ে চাহিদা কমে যাওয়ায় তারাও বেশি দামে চামড়া কিনতে পারছেন না।

কাঁচা চামড়ার আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, “একটি চামড়া সংগ্রহের পর পরিষ্কার করতে হয়, লবণ দিতে হয়, সংরক্ষণ করতে হয়। সব মিলিয়ে একটি চামড়া কারখানায় পৌঁছাতে খরচ পড়ে প্রায় ৪৫০ টাকার মতো। এখন বাজার পরিস্থিতির কারণে আমরা বেশি দামে কিনে ঝুঁকি নিতে পারছি না।”

তিনি বলেন, “ট্যানারিগুলো সময়মতো টাকা দেয় না। আবার আন্তর্জাতিক বাজারেও চামড়ার দর কমেছে। ফলে, পুরো বাজারে একটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।”

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর কোরবানির ঈদে দেশের মোট কাঁচা চামড়ার বড় একটি অংশ আসে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। বিশেষ করে, উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ চামড়া চট্টগ্রাম নগরীর আড়তগুলোতে আসে। কিন্তু, সংরক্ষণ সংকট, দামের অস্থিরতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”

চট্টগ্রামের পুরনো চামড়া ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, “চামড়া জাতীয় সম্পদ। কিন্তু, এই খাতটা এখনো পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা যায়নি। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দাম না পেয়ে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতে চামড়া সংগ্রহেও সংকট তৈরি হতে পারে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি নজরদারি, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তা না হলে প্রতি বছরের মতো এবারও লোকসানের বোঝা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হবে ছোট ব্যবসায়ীদের।