হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ ঘটে। সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকের ব্যথা ১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়। ব্যথা হালকা বা তীব্র—দুই রকমই হতে পারে। কিছু মানুষের আবার বুকব্যথা নাও হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ কম বোঝা যায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি ও বয়স্কদের ক্ষেত্রেও উপসর্গ কম স্পষ্ট হতে পারে। যেমন—শুধু বমিভাব বা ঘাড়, বাহু কিংবা পিঠে হঠাৎ তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক হলো হৃদ্পেশিতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি হওয়া। এর আরেক নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।
উপসর্গ
বুকে চাপ, টান, ব্যথা, চেপে ধরা বা ব্যথার অনুভূতি ব্যথা বা অস্বস্তি কাঁধ, বাহু, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল, দাঁত বা কখনো ওপরের পেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া ঠান্ডা ঘাম অতিরিক্ত ক্লান্তি বুকজ্বালা বা বদহজমের মতো অনুভূতি মাথা হালকা লাগা বা হঠাৎ মাথা ঘোরা বমিভাব শ্বাসকষ্ট১. যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যান হার্ট অ্যাটাকের ফলে হঠাৎ হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সিপিআর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে। উপসর্গ উপেক্ষা করবেন না। অ্যাম্বুলেন্স না পেলে অন্য কোনো উপায়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান।
২. অ্যাসপিরিন খান (যদি পরামর্শ দেওয়া হয়) অ্যাসপিরিন রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে সাহায্য করে এবং হার্টের ক্ষতি কমাতে পারে। তবে চিকিৎসক বা জরুরি সেবাকর্মী পরামর্শ না দিলে অ্যাসপিরিন খাবেন না। আগে জরুরি সাহায্য ডাকুন, পরে ওষুধ নিন।
৩. নাইট্রোগ্লিসারিন নিন (যদি আগে থেকে প্রেসক্রিপশন থাকে) চিকিৎসক যেভাবে নিতে বলেছেন, ঠিক সেভাবে নিন। অন্য কারও ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
৪. সিপিআর শুরু করুন ব্যক্তির শ্বাস বা নাড়ির স্পন্দন না থাকলে সিপিআর দিন। যদি সিপিআর শেখা না থাকে, তাহলে শুধু হাতে চাপ প্রয়োগ করুন। অর্থাৎ বুকের মাঝখানে জোরে ও দ্রুত চাপ দিন—প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ বার। যদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হন, তাহলে ৩০ বার বুক চাপ দেওয়ার পর ২ বার রেসকিউ ব্রিদ দিন।
৫. এইডি ব্যবহার করুন কাছাকাছি অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর থাকলে এবং ব্যক্তি অচেতন থাকলে সেটি ব্যবহার করুন। এটি প্রয়োজন হলে হৃদ্যন্ত্রে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। যন্ত্রটি ধাপে ধাপে কণ্ঠনির্দেশনা দেয় এবং নিরাপদ হলে তবেই শক দেয়।
প্রতিরোধ জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে—
পরামর্শ: সিপিআর ও এইডি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নেওয়াও ভালো। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে অন্যের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারবেন।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক