ঈদের ছুটিতে ইট-পাথরের যান্ত্রিক ঢাকা এখন অনেকটাই কোলাহলমুক্ত ও শান্ত। তবে উৎসবের আমেজে প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে রাজধানীর উন্মুক্ত সবুজ চত্বরগুলো। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীর জিয়া উদ্যান ও সংসদ ভবনের সামনে অনেক পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ও জিয়া উদ্যানে গিয়ে দেখা যায় দর্শনার্থীদের ভিড়।
সবুজ ঘাসে ঘেরা বিশাল চত্বর, লেকের শীতল হাওয়া আর সারিবদ্ধ গাছের ছায়ায় ঘেরা জিয়া উদ্যানটিতে এবার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়েছে। কেউ এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ এসেছেন শিশুদের নিয়ে প্রকৃতির আনন্দ দিতে। বিশাল এই চত্বরে ছোট ছোট শিশুদের দৌড়াদৌড়ি, বল খেলা ও বেলুন ওড়ানোর দৃশ্য পুরো উদ্যানজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে। লেকের পাড়ে বসে গল্প করার পাশাপাশি মনোরম পরিবেশে মোবাইল ও ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ধরে রাখছেন দর্শনার্থীরা।
বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছেন গৃহিনী আকলিমা আক্তার। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ঈদের দিনে ঘরের কাজ আর মেহমান সামলাতেই বেলা শেষ হয়েছে। গতকাল আবার মেহমান এসেছে। তাই আজ একটু সময় বের করে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ছেলে মেয়েকে একটু ঘুড়তে নিয়ে এসেছি। ঢাকায় তো বাচ্চাদের খেলার মতো খোলা জায়গা বা পার্ক পাওয়াই দায়। এখানে এসে এত সবুজ আর খোলা আকাশ দেখে ওরা তো অনেক খুশিত। ঘাসের ওপর ও বল নিয়ে খেলছে, আর আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলে বেশ কিছু ছবি তুললাম। সত্যি বলতে, বাচ্চাদের এই আনন্দটাই আমাদের ঈদের আসল খুশি।”
জাতীয় সংসদ ভবনে সামনে ভ্রাম্যমাণ ফুচকার দোকানে পরিবার নিয়ে ফুচকা খাচ্ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী লামিয়া আক্তার লিজা। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ছুটা ছাড়া এভাবে ঘুরতে বের হওয়া হয় না। আজ পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছি। প্রথম রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে এখন সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান ঘুরতে আসছি। ভালো একটা সময় কাটছে।”
ডেমরা থেকে জিয়া উদ্যানে পরিবারসহ ঘুরতে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী মো. আজিজুল হক। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, "ঈদের ছুটিতে এবার গ্রামে যাওয়া হয়নি। পরিবার নিয়ে দুপুরের পর এখানে চলে এসেছি। বাসা থেকে হালকা কিছু নাস্তা আর চাদর নিয়ে এসেছি, সবাই মিলে ঘাসের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছি। লেকের বাতাসটা খুব চমৎকার। বড় বড় নামী থিম পার্কগুলোতে রাইডের যে চড়া দাম, সেই তুলনায় এই উদ্যানটি সাধারণ পরিবারের জন্য একদম দারুণ এক জায়গা। চারপাশের মানুষের কোলাহল আর বাচ্চাদের খেলাধুলা দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল।”
দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়কে কেন্দ্র করে উদ্যানের ভেতরে ও বাইরে বসেছে মৌসুমী খেলনা ও হরেক রকম খাবারের দোকান। চটপটি, ফুচকা, আইসক্রিম আর ঝালমুড়ির দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। তবে দর্শনার্থীদের অভিযোগ, ছুটির দিনকে পুঁজি করে ভেতরের দোকানগুলোতে খাবার ও প্লাস্টিকের খেলনার দাম কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে। এছাড়া উদ্যানের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় এবং আগত নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে।