দেহঘড়ি

গরমে শুধু ৮ গ্লাস পানি পান করলেই হবে?

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ চলার কারণে অনেকেরই প্রশ্ন—এমন গরমে দিনে ৮ গ্লাস পানি খাওয়া কী যথেষ্ট? সাধারণভাবে দিনে ৮ গ্লাস পানি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের দিনে সবার জন্য এই পরিমাণ যথেষ্ট নাও হতে পারে। কারণ শরীরের পানির চাহিদা নির্ভর করে আবহাওয়া, শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং ঘামের পরিমাণের ওপর।

গরমের সময় শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা রাখে। ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি না পেলে শরীর বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে হিট স্ট্রোকসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পঙ্কজ রেলান বলেন, ‘‘শুধু গ্লাস গুনে পানি খাওয়াই যথেষ্ট নয়। একজন মানুষের কতটা পানি প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করে—আবহাওয়ার তাপমাত্রা, বয়স ও শারীরিক অবস্থা,  দৈনিক কায়িক শ্রমের পরিমাণ , ব্যায়াম বা শারীরচর্চার অভ্যাস,  দীর্ঘ সময় রোদে থাকার প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, বাইরে কাজ করেন বা অতিরিক্ত ঘাম ঝরান, তাদের ক্ষেত্রে ৮ গ্লাসের চেয়েও বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে।’’

পানিশূন্যতার লক্ষণ শরীরে পানির ঘাটতি হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অস্বস্তি  তীব্র পিপাসা  ঠোঁট ও জিভ শুকিয়ে যাওয়া  মাথাব্যথা  পেশিতে টান ধরা  হজমের সমস্যা  অতিরিক্ত পানিও ক্ষতিকর

চিকিৎসকদের মতে, যেমন কম পানি খাওয়া ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত পানি পান করাও ঝুঁকিপূর্ণ। খুব বেশি পানি খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে, ফলে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

শুধু পানি নয়, খনিজের জোগানও জরুরি গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে খনিজ লবণও বেরিয়ে যায়। তাই শুধু পানি নয়, খনিজসমৃদ্ধ পানীয় ও খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। যেমন—

ডাবের পানি  মৌসুমি ফল  বাটারমিল্ক লাচ্ছি লেবুর শরবত 

এসব পানীয় শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খনিজের চাহিদাও পূরণ করে এবং দ্রুত শক্তি জোগায়।

আরও কিছু সতর্কতা অতিরিক্ত চা ও কফি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা বাড়তে পারে।  হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের পানি পানের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।  তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে নিয়মিত বিরতিতে পানি ও ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ করা জরুরি। 

প্রচণ্ড গরমে সবার জন্য দিনে ৮ গ্লাস পানি যথেষ্ট—এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। শরীরের চাহিদা, ঘামের পরিমাণ এবং দৈনন্দিন কাজের ধরন অনুযায়ী পানির পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরের পানিশূন্যতার লক্ষণগুলোর দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজনে পানি ও খনিজ উভয়েরই ঘাটতি পূরণ করা।

সূত্র: আনন্দবাজার