ইরাক ও ইরান প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আবারো কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।
রবিবার (৩১ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, অতীতে বাগদাদ বা ইরানে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান করা মোটেও উচিত হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরাক যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকান বাহিনীদের বাগদাদে বা ইরানে থাকা উচিত হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, “ইরাকে কী ঘটেছিল তা দেখুন। আমরা খুব খারাপ করেছি। আমরা যা করেছি তা ছিল খুবই বোকার মতো একটি কাজ। প্রথমত, আমাদের সেখানে যাওয়াই উচিত হয়নি।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের ইরানে থাকা উচিত হয়নি, তবে ইরানের সেই সক্ষমতা রয়েছে। আমরা যদি নয় মাস আগে বি-টু বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তাহলে এই মুহূর্তে তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। হয়তো তখন ইসরায়েল থাকত না, এমনকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যই থাকত না; আর তারপর তারা কোথা থেকে কোথায় যেত?”
ট্রাম্প আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবেই ইরানের সামরিক বাহিনীকে রেহাই দিয়েছে।
তিনি বলেন, “তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা একপ্রকার ঘাঁটাইনি বা একা ছেড়ে দিয়েছি, কারণ আমাদের মনে হয় তাদের সামরিক বাহিনী কিছুটা মধ্যপন্থি। তাদের অন্য কিছু লোক আছে যারা মধ্যপন্থি নয়। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। আমরা বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বকে হটিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমরা আসলে তাদের সামরিক বাহিনীকে স্পর্শ করিনি।”
ট্রাম্প যোগ করেন, “মানুষ এটা শুনে অবাক হতে পারে, কারণ অতীতে যুদ্ধে এমন কিছু ভুল হয়েছে যেখানে পুরো সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল এবং এর ফলে এমন একটি দেশের সৃষ্টি হয় যা, আপনি জানেন, ৪০ বছরেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না।”
ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘দারুণ চুক্তি’ করতে যাচ্ছে, আর তা না হলে আমরা সামরিকভাবে এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, “তিনি চুক্তি করতেই বেশি পছন্দ করবেন, কারণ এতে ‘অনেক জীবন বাঁচবে’। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই আমরা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিতে পারব।”
ইরানের নেতৃত্বকে ‘খুবই কঠিন আলোচক’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করছে।
তিনি বলেন, “এতে দীর্ঘ সময় লাগে। আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আপনি যদি তাড়াহুড়ো করতে যান, তাহলে ভালো কোনো চুক্তি করতে পারবেন না। ধীর অথচ নিশ্চিত পদক্ষেপে আমরা, আমার মনে হয়, যা চাচ্ছি তা পাচ্ছি। আর যদি আমরা যা চাচ্ছি তা না পাই, তাহলে আমরা ভিন্ন উপায়ে এর সমাপ্তি ঘটাব।”