বিনোদন

সালামির সব টাকা ভিডিও গেমসে খরচ করেছিলাম: শ্যামল মাওলা

ছোট ও বড়পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেতা শ্যামল মাওলা। ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সরব তিনি। ফলে বছরজুড়ে ব্যস্ত সময় কাটান।  অভিনয়ে ব্যস্ততা, ঈদের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেতা। 

শ্যামল মাওলা বলেন, ‘‘আমার ছোটবেলার ঈদ কাটত ঢাকার শাহবাগে। আমি আগাগোড়া শহরের মানুষ, তাই আমার কাছে ঈদ মানেই শহর। আমি গ্রামে মাত্র দুটি ঈদ করেছি—একটি রোজার ঈদ, অন্যটি কোরবানির ঈদ। আর ছোটবেলায় আমাদের একটাই শখ ছিল—ঈদের দিন ভিআইপি রোডে রিকশা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো।’’ 

তবে গ্রামের ঈদ, শহরের ঈদ— এভাবে ভাগ করতে চান না শ্যামল মাওলা। তিনি মনে করেন, ঈদ উদযাপনের অনুভূতি নির্ভর করে সে কোথায় বড় হয়েছে, পরিচিত মানুষ আছে কিনা, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারাই হলো আনন্দ। ‘‘যারা ঢাকায় বড় হয়েছেন, তাদের ঢাকাতে ভালো লাগবে। আবার যারা গ্রামে বড় হয়েছেন তাদের গ্রামে ভালো লাগবে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে কোথায় দেখা হবে, তার ওপর নির্ভর করে ঈদের আনন্দ। অর্থাৎ কোনো জায়গা প্রিয় হওয়ার জন্য মানুষই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ,’’ বলেন তিনি। 

কোরবানির ঈদের স্মৃতিবিজড়িত কোনো ঘটনা জানতে চাইলে শ্যামল মাওলা বলেন, ‘‘ আমরা তিন ভাই, আব্বু মিলে মোট চারজন ছিলাম। একবার আমরা নিজেরাই কোরবানির গরু জবাই করার জন্য শোয়ানোর চেষ্টা করছিলাম। গরুটা হঠাৎ একদম আমার কাছে চলে আসায় ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তারপর কোনোমতে গরুর শিং ধরে ওকে শুইয়ে ফেলতে পেরেছিলাম। ওটা বড় ধরনের একটা দুর্ঘটনা হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি বেঁচে গিয়েছিলাম এবং গরুটাকেও শোয়ানো সম্ভব হয়েছিল। এটা একদিক থেকে মজার ছিল। কারণ আমি ছোট হওয়া সত্ত্বেও এমন একটা কাজ করতে পেরেছিলাম, যা বড়রাও পারছিলেন না। অবশ্য আরেকবার  গরুর পাড়া খেয়ে পা কেটে গিয়েছিল।’’

গরু কিনে আনা থেকে শুরু করে দেখভাল করা, সুন্দর করে সাজিয়ে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা—কোরবানির এই পুরো প্রক্রিয়াটাই ভালো লাগে উল্লেখ করে শ্যামল মাওলা বলেন, ‘‘তবে এখন বড় হয়ে এই জিনিসটা আগের মতো আর ভালো লাগে না, ছোটবেলায় না বুঝে এগুলো অনেক বেশি এনজয় করতাম।’’ 

‘‘ছোটবেলায় ঈদ করতাম, আর এখন ঈদ ঘটাতে হয়। ছোটবেলায় কোনো দায়িত্ব ছিল না, শুধু আনন্দ করতাম,’’ ছোটবেলা আর বর্তমান সময়ের ঈদের পার্থক্য তুলে ধরে এই অভিনেতা বলেন, ‘‘এখন দায়িত্ব অনেক বেশি; অন্যদের জন্য ঈদের আয়োজন করা বা তাদের ঈদ যেন ভালো হয়, সেই ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নিতে হয়। এখনকার ঈদের দিনটা তাই পছন্দের চেয়েও বেশি দায়িত্ব পালনের দিন, যাতে পরিবারের সবার আরাম ও আনন্দ নিশ্চিত করা যায়।’’

শ্যামল মাওলার বিশেষ কোনো খাবার নেই যা ঈদের মেন্যুতে থাকতেই হবে। খাবারের ব্যাপারে ধরাবাঁধা পছন্দও নেই। ঘরে  যা রান্না হয় তাই খেয়ে নেন। তবে যে কোনো গরুর মাংসের আইটেম ভালো রান্না করতে পারেন তিনি। ঈদের সালামি নিয়ে তার রয়েছে বিশেষ কিছু স্মৃতি। 

‘‘সালামি নিয়ে আমার একটা দুঃখজনক স্মৃতি আছে। একবার সালামির সব টাকা আমি ভিডিও গেমসে খরচ করে ফেলেছিলাম, যা নিয়ে পরে আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল। তারপর থেকেই আমি ভিডিও গেম বা জুয়া, ক্যাসিনো জাতীয় জিনিস পছন্দ করি না।’’ 

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভক্তদের একটাই বার্তা দিতে চান এই অভিনেতা। আর তা হলো ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখার আমন্ত্রণ। যারা হলে গিয়ে সিনেমাটি এখনও দেখতে পারেননি তাদের  ইউটিউবে যখন আসবে, তখন দেখার আহ্বান জানান তিনি।