খেলাধুলা

সূর্যবংশীর স্বাভাবিক খেলার ধরণে অযথা হস্তক্ষেপ না করার পরামর্শ শচীনের

বৈভব সূর্যবংশী যে রকম আছেন, তাকে তার মতো করে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের ক্রিকেটের ব‌্যাটিং ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার। ১৫ বছরের বিস্ময়বালককে প্রশংসায় ভাসিয়ে শচীন বলেছেন, ‘‘সূর্যবংশী বিশেষ প্রতিভা।’’ এছাড়া সতর্ক করে শচীন যোগ করেছেন, তাকে জাতীয় দলে নেওয়ার জন‌্য তাড়াহুড়ো না করতে এবং স্বাভাবিক খেলার ধরণ নিয়ে যেন কেউ অযথা হস্তক্ষেপ না করে। 

১৫ বছরের সূর্যবংশী আইপিএলের শুরু থেকে ফাইনালের আগ পর্যন্ত যা করলেন, যা করে দেখালেন, বোলারদের যেভাবে নাকানিচুবানি খাওয়ালেন তা ইতিহাসের অক্ষয় কালিতে লেখা হয়ে গেছে। ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে আসরের সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান করেছেন। 

আইপিএলের এক আসরে আগের সর্বোচ্চ ক্রিস গেইলের ৫৯ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে নতুন কীর্তি গড়েছেন সূর্যবংশী। তার ছক্কার সংখ্যা ৭২টি। দ্রুততম হাজার রানের মালিক হয়েছেন সূর্যবংশী। তার হাজার রান পেতে বল লেগেছে ৪৪০টি। ৫৪৫ বলে হাজার ছুঁয়ে এতদিন রেকর্ডটি ছিল ক্যারিবিয়ান তারকা আন্দ্রে রাসেলের। 

মুম্বাইয়ে ক্রিকইনফো অনার্স অনুষ্ঠানে ২১শ শতাব্দীর সেরা আন্তর্জাতিক পুরুষ ব্যাটারের স্বীকৃতি পাওয়ার পর টেন্ডুলকার বলেন, ‘‘ও বিশেষ প্রতিভা। তাকে তার মতো করে চলতে দিন। কিছু মানুষের জন্মই হয় সবকিছুকে ছারখার করে দিতে। সূর্যবংশী তাদেরই একজন।’’

শচীন মুগ্ধ হয়েছেন সূর্যবংশীর কবজির ব‌্যবহারে, ‘‘সবাই সূর্যবংশীকে নিয়ে কথা বলছে, আমিও তার ব্যাটিং দেখেছি। অসাধারণ লেগেছে। সে সত্যিই বিশেষ কিছু। শুধু বড় শট খেলার ক্ষমতাই নয়, তার কবজির ব্যবহার আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।”

“মাঠের চারদিকে শট খেলতে হলে কবজির কাজ খুব ভালো হতে হয়। সে বলকে জোর করে মারছে না, বরং অন্যদের চেয়ে আগে বলের লাইন ও লেংথ বুঝে ফেলছে এবং সহজেই বাউন্ডারি পার করছে।” – যোগ করেন শচীন। 

সুনীল গাভাস্কার মনে করেন এখনই সূর্যবংশীকে জাতীয় দলে নেওয়া হোক। একই কথা বলেছেন বীরন্দ্রর শেবাগ। রাজস্থা রয়‌্যালসের কোচ কুমার সাঙ্গাকারাও বিশ্বাস করেন, জাতীয় দলে খেলার জন‌্য প্রস্তুত বাঁহাতি বিস্ফোরক ব‌্যাটসম‌্যান। তবে শচীন তাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চান না। 

তার ভাষায়, “আমি তাকে বলব, নিজের মতোই থাকতে। টেস্ট ক্রিকেটে বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে সে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখবে। ক্রিকেটে সমস্যার শেষ নেই। ক্যারিয়ারের শেষ দিন পর্যন্ত, শেষ বল পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রতিটি বলেই বোলার তোমাকে একটি প্রশ্ন করে, আর ব্যাটারের কাজ হলো তার সমাধান খুঁজে বের করা।”

এছাড়া তার সহজাত ক্রিকেট প্রতিভা নিয়েও নাড়াচাড়া না করার পরামর্শ শচীনের, ‘‘আমি তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তির সঙ্গে কোনোভাবেই খেলতে চাই না। যদি তাকে অনেক কিছু শেখানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আমি তাকে স্বাধীনভাবে খেলতে দিতে চাই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে নিজেই খেলার অন্য দিকগুলো আয়ত্ত করে নেবে।”

এছাড়া বাঁহাতি ব‌্যাটারকে টেস্ট ক্রিকেটেও দেখতে চান শচীন, ‘‘শুধু আমি নই, সবাই একসময় তাকে টেস্ট ক্রিকেটে দেখতে চাইবে। কিন্তু এমন প্রতিভাবান একজন ক্রিকেটারের প্রয়োজন উৎসাহ ও সমর্থন। সে ভালো খেললে তাকে উপভোগ করতে হবে এবং অযথা চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। কোন দলে তাকে নেওয়া হবে বা কবে সুযোগ পাবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।”