সারা বাংলা

আদালতের রায় উপেক্ষা, শ্রীপুরে জমি ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ 

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নাম্বার ওয়ার্ডে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের দুই বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। আদালতের রায় নিজেদের পক্ষে থাকার দাবি করে এক পক্ষের অভিযোগ, জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিটি নিয়ে প্রায় ১৬ বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আতিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুল্লাহ দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। এ অবস্থায় ২০১৬ সালে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।

তাদের দাবি, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিন বছর আগে আদালত জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলায় তাদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে দায়ের করা নিষেধাজ্ঞা মামলারও চূড়ান্ত রায় সম্প্রতি তাদের অনুকূলে আসে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (৩০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুল্লাহ সহযোগীদের নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় মালিকানা দাবি করা আতিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়ায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের ২০ থেকে ৩০ জন সমর্থক দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও স্টিক নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় পরিবারের নারী সদস্যরাও আহত হন। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হলে স্থানীয় হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আতিকুল ইসলামের পরিবার অভিযোগ করে, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হামলার সময় তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে সর্বশেষ ঘটনার পর আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুল্লাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, আদালতের রায় কার্যকর হওয়ার পরও কেন একই জমিকে কেন্দ্র করে পুনরায় সংঘাতের সৃষ্টি হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।