রাজনীতি

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে: রাকিব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, “আত্মীয়-স্বজন বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় না দিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। বিগত সাড়ে ১৭ বছর যারা দলকে আগলে রেখেছেন, আগামী দিনেও তারাই সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।”

তিনি বলেন, “ছাত্রদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।”

রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ছাত্রদলের সভাপতি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্র গঠনে অবদান অল্প পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু, বেসরকারি খাতের বিকাশ, রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট শিল্পের প্রসার এবং শিল্পাঞ্চল ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।” 

তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে যে রেমিট্যান্সভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা আজও দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকাশ, শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ধারণা বাস্তবায়নেও জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।”

ছাত্রদলের সভাপতি জানান, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের কাছে জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রদল সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কঠিন দমন-পীড়নের মুখেও আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। ওই সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী রক্ত দিয়েছেন এবং আত্মত্যাগ করেছেন।”

তিনি বলেন, “ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই, তাদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না।”

বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।