মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হালিমা আক্তার (১৯) নামে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), আলামিন প্রধান (৫০) ও রাসেল মিয়া (৪৪)।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান বলেন, গত ২৯ মে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করলে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তিনি বলেন, হালিমার কাছে আবু কালাম ২৫ হাজার ও রাসেল ১০ হাজার টাকা পেতেন। এছাড়া জামালের সঙ্গে হালিমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিকভাবে মানহানি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে ঘটনার ১৫ দিন আগে আসামিরা হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর হালিমাকে কৌশলে বড় ভাটেরচর এলাকার নদীর পাড়ে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে আসামিরা তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। এরপর হালিমার পরিধেয় পোশাক গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।