পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি শেষে আজ সোমবার খুলেছে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়। দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিলেও প্রথম কর্মদিবসে দাপ্তরিক ব্যস্ততার চেয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্যই ছিল বেশি।
সকাল থেকেই সচিবালয়ের করিডোর, সিঁড়ি ও লিফটে সহকর্মীদের কোলাকুলি আর কুশল বিনিময় করতে দেখা গেছে। অনেক দপ্তরেই চলেছে মিষ্টিমুখ। উৎসবের আমেজ এখনও কাটেনি বলে জানান কর্মকর্তারা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সাত দিন পর সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা। শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। এরপরপরই জরুরি ফাইল নিয়ে বসেছি। ছুটিতে অনেক কাজ জমে গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারহানা ইয়াসমিন জানান, আমেজ থাকলেও কাজের চাপ কম না। বাজেট বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইলগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে ছাড় করতে হচ্ছে। অনেকে ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ায় উপস্থিতি কিছুটা কম।
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদের পর অফিসের পরিবেশটাই অন্যরকম। সবাই ঈদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করছি। আজ সম্পর্ক ঝালাইয়ের দিন। কাল থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের জরুরি বিভাগের অনেকে ছুটিতেও ডিউটি করেছেন। আজ যারা ফিরেছেন, তাদের মুখে ঈদের গল্প শুনছি। এই শুভেচ্ছা বিনিময় কাজের একঘেয়েমি দূর করে।”
সচিবালয় চত্বর ঘুরে দেখা গেছে, গাড়ি পার্কিংয়ে স্বাভাবিক চাপ। তবে দর্শনার্থী কক্ষ প্রায় ফাঁকা। জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে ব্যস্ততা থাকলেও অন্যান্য শাখায় উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল।
উল্লেখ্য, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ২৮ মে ঈদ উদযাপিত হয়। ছুটি সমন্বয়ে ২৩ মে শনিবার অফিস খোলা ছিল। আজ থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজারের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে প্রথম দিন হওয়ায় বেশিরভাগ দপ্তরেই কাজের গতি ছিল তুলনামূলক ধীর।