পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ঈদ যাত্রা ফিরতি যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন সাধারণ যাত্রীরা। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে আসা অনেক যাত্রী অভিযোগ করছেন যে, তাদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা বাস থেকে যাত্রী নামছেন।
রংপুর থেকে সপরিবারে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী লতিফুর ইসলাম। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এবার রাস্তায় কোনো যানজট ছিল না। কিন্তু সমস্যা হয়েছে টিকিট কাটতে গিয়ে। রংপুরের কাউন্টারে ৭০০ টাকার টিকিট ৯০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। কাউন্টার থেকে সরাসরি বলে দেওয়া হয়েছে, নিলে নেন না নিলে চলে যান। বাধ্য হয়েই বেশি টাকা দিয়ে আসতে হয়েছে।”
কুষ্টিয়া থেকে আসা মো. সোহাগ বিশ্বাস বলেন, “ঈদ ফিরতি যাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল। কিন্তু যাত্রী বেশি থাকার সুযোগ নিয়ে পরিবহন মালিকরা বাড়তি ভাড়া রেখেছে। সরকারি ভাড়ার যে তালিকা, সেটা শুধু কাগজেই থাকে। তারা অজুহাত দেয় ঢাকা থেকে গাড়ি খালি যাচ্ছে, তাই ফিরতি পথে ভাড়া বেশি। আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই বাড়তি খরচটা অনেক কষ্টদায়ক।”
ঝিনাইদহ থেকে আসা যাত্রী গৃহিণী সাদীয়া আক্তার তুলী বলেন, “বাসের সিট আর সার্ভিসের কোনো মান বাড়েনি, অথচ ভাড়া ঠিকই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো তদারকি না থাকায় টিকিট কাউন্টারগুলো সিন্ডিকেট করে মানুষের পকেট কাটছে। যাত্রা স্বস্তির হলেও ভাড়ার এই নৈরাজ্য পুরো আনন্দের মুডটাই নষ্ট করে দিয়েছে।”
গাবতলী বাস টার্মিনালে নাবিল কাউন্টারের টিকিট মাস্টার সাকিল আহমেদ বলেন, “আজকে আমাদের যেসকল যাত্রী আসছেন সবার অগ্রিম অনলাইন টিকিট কাটা ছিল। আমাদের বাসে কোনো বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অন্যান্য পরিবহন বাড়তি ভাড়া নিয়েছে কিনা তা জানা নেই। আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া রেখেছি।”