বিনোদন

ঈদে দর্শক-তারকায় জমে উঠেছে প্রেক্ষাগৃহ, বদলেছে প্রচারণার ধারা

ঈদের সিনেমা মানেই শুধু নতুন ছবি মুক্তি নয়, এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক প্রচারণার নতুন সংস্কৃতি। পোস্টার-ট্রেলারের গণ্ডি পেরিয়ে নির্মাতা, অভিনেতা ও কলাকুশলীরা সরাসরি দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন, শুনছেন তাদের মতামত, অংশ নিচ্ছেন ছবি তোলা ও আড্ডায়।

ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো শুধু সিনেমা প্রদর্শনের স্থান নয়, বরং দর্শক-তারকার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নতুন সিনেমা মুক্তির পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহভিত্তিক প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্মাতা, অভিনেতা ও কলাকুশলীরা।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সিনেমা প্রচারণায় এটি একটি নতুন ধারা। আগে ট্রেলার, পোস্টার বা টেলিভিশন প্রচারণার ওপর নির্ভরতা বেশি থাকলেও এখন শিল্পীরা সরাসরি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের প্রতিক্রিয়া শুনছেন এবং সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠছেন।

এবার ঈদুল আজহায় দেশের ১৮১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আটটি সিনেমা। এর মধ্যে রয়েছে ‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘মালিক’, ‘মাসুদ রানা’, ‘অফিসার’, ‘তছনছ’, ‘পিনিক’ এবং ‘বনলতা সেন’। প্রায় প্রতিটি সিনেমার টিমই বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’। দেশের ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটি দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের মুখে পড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সে দর্শক চাহিদা বাড়ায় শো সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশো এবং অভিনেত্রী সাবিলা নূর ও তানজিয়া মিথিলা নিয়মিত বিভিন্ন হলে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন

পরিচালক আজমান রুশোর মতে, ‘রকস্টার’-এ প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার বাইরে নতুন ধরনের গল্প ও উপস্থাপনা আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই দর্শকদের প্রতিক্রিয়া জানার বিষয়টিকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

একইভাবে দর্শকের আগ্রহ কুড়িয়েছে সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’। অ্যাকশন, রোমান্স ও বিনোদননির্ভর ছবিটি দেশের ৩২টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে। এরই মধ্যে কয়েকটি হলে একাধিক শো হাউসফুল হয়েছে। প্রচারণায় অংশ নিয়ে অভিনেতা আরিফিন শুভ বলেছেন, ঈদের দর্শকের বিনোদনের চাহিদা মাথায় রেখেই ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে।

মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ সিনেমার টিমও দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। কয়েকটি শো হাউসফুল হওয়ায় সিনেমাটি নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

অন্যদিক, অ্যাডভেঞ্চারধর্মী ‘মাসুদ রানা’র শিল্পী ও নির্মাতারাও নিয়মিত প্রেক্ষাগৃহে যাচ্ছেন। চারটি মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পাওয়া ছবিটির কয়েকটি প্রদর্শনীও পূর্ণ দর্শক নিয়ে চলেছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা, পূজা চেরি ও সৈয়দা তিথি অমি।

মাল্টিপ্লেক্স দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে ‘বনলতা সেন’। মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটি বর্তমানে আটটি মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শিত হচ্ছে। সিনেমার শিল্পী ও কলাকুশলীরাও নিয়মিত দর্শকদের সঙ্গে দেখা করছেন এবং তাদের মতামত জানছেন।

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এই প্রবণতা সিনেমার প্রচারণাকে আরো কার্যকর করে তুলছে। একইসঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপস্থিতিও বাড়ছে। ফলে ঈদের সিনেমা উৎসব শুধু পর্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত আয়োজন হয়ে উঠেছে।