দীর্ঘদিন ধরে কাজের অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ ও মানসিক হতাশার মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী মৌলি দত্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অভিনয়জগতে টিকে থাকার লড়াই অনেক সময় বাইরের মানুষের ধারণার চেয়েও কঠিন।
কাজের অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ এবং মানসিক হতাশা—এই তিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী মৌলি দত্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
মৌলির দাবি, আগের মতো নিয়মিত অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। বর্তমানে যে প্রকল্পে কাজ করছেন, সেখানে কাজের দিনও খুব সীমিত। অন্যদিকে, ফ্ল্যাটের ঋণের কিস্তি, সংসারের খরচ এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ের দায়িত্বও তার কাঁধেই।
তিনি জানান, নতুন কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও আশানুরূপ সাড়া পাননি। কোথাও অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে, আবার কোথাও জানানো হয়েছে যে তার জন্য উপযুক্ত চরিত্র নেই। এসব কারণে ধীরে ধীরে হতাশা বাড়তে থাকে।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, ঘটনার দিন কাজসংক্রান্ত হতাশার পাশাপাশি কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্যও হয়েছিল। সবকিছু মিলিয়ে নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছিল। তার মনে হয়েছিল, তাকে বোঝার মতো কেউ পাশে নেই। সেই আবেগঘন মুহূর্তেই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহৃত ঘুমের ওষুধের পুরো একটি স্ট্রিপ খেয়ে ফেলেন।
তবে মৌলি স্পষ্ট করেছেন, ঘটনার সঙ্গে কোনো প্রেমঘটিত বিষয় জড়িত ছিল না। তার মতে, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপই ছিল তার সংকটের মূল কারণ।
বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ এবং বাসায় বিশ্রামে আছেন। এ ঘটনার পর নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে কে প্রকৃত বন্ধু আর কে নয়, সেটিও বুঝতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
মৌলির পরিবার পশ্চিমবঙ্গের কাটোয়ায় থাকেন। শুরুতে তিনি বিষয়টি পরিবারকে জানাননি। পরে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং তার সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকারে মৌলি আরো বলেন, “এই মুহূর্তে তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিয়মিত কাজ।” তার মতে, অভিনয়জগতে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেয়ে সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখা অনেক বেশি কঠিন।
সূত্র: আজকাল