দেহঘড়ি

যেসব রোগের কারণে দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে

চোখে মারাত্মক অস্বস্তি হলে বা দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করলে তবেই আমরা সাধারণত চোখের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল করি। তবে হালকা চুলকানি, লালভাব বা সামান্য অস্বস্তিকেও অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখ অনেক সময় শরীরের বিভিন্ন গুরুতর রোগের প্রাথমিক সংকেত দিতে পারে।

১. হঠাৎ ঝাপসা দেখা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করলে সাময়িকভাবে ঝাপসা দেখা স্বাভাবিক। তবে যদি বারবার বা হঠাৎ করে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, তাহলে তা হতে পারে—

ডায়াবিটিসের লক্ষণ  রেটিনার সমস্যা  চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ (গ্লুকোমা) বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত 

এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. দীর্ঘদিন চোখ লাল থাকা ধুলোবালি, ক্লান্তি বা চোখ ঘষার কারণে সাময়িকভাবে চোখ লাল হতে পারে। কিন্তু যদি কয়েকদিন ধরেও লালভাব না কমে বা বারবার ফিরে আসে, তাহলে তা হতে পারে—

অ্যালার্জি  চোখের সংক্রমণ  চোখের প্রদাহ 

৩. আলোর ঝলকানি বা কালো দাগ দেখা অনেকেই মাঝে মাঝে চোখের সামনে ছোট ছোট ভাসমান দাগ (ফ্লোটার) দেখতে পান। তবে হঠাৎ করে—

অনেক ফ্লোটার দেখা,  আলোর ঝলকানি অনুভব করা,  বা কালো ছায়ার মতো দাগ দেখা 

রেটিনার গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

৪. চোখে ব্যথা বা যন্ত্রণা সাধারণ চোখের ক্লান্তি কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চোখে ব্যথা বা যন্ত্রণা থাকলে তা হতে পারে—

সংক্রমণ  প্রদাহ  চোখের চাপ বেড়ে যাওয়া 

৫. সারাদিন চোখ শুকনো বা অস্বস্তিকর লাগা দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ড্রাই আই বা চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা বেড়েছে। তবে যদি সারাক্ষণ—

জ্বালাপোড়া,  শুষ্কতা বা বালির মতো খচখচে অনুভূতি থাকে

তাহলে শুধু স্ক্রিন ব্যবহারের কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৬. রাতের বেলা দেখতে অসুবিধা কম আলোতে দেখতে সমস্যা সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয়, তাই অনেকেই প্রথম দিকে বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে এটি হতে পারে—

ছানির লক্ষণ  রেটিনা-সংক্রান্ত সমস্যার ইঙ্গিত 

৭. চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া চোখের সাদা অংশে হলুদ আভা দেখা গেলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অনেক সময়—

লিভারের সমস্যা  জন্ডিস 

এর লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চোখের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

সূত্র: এই সময়